ড. মুহাম্মদ আবু ইউসুফ একাধারে একজন গবেষক, শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট, রাজনীতি বিশ্লেষক ও সমাজসেবী। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরের উত্তর কেরোয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত্র মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। উত্তর কেরোয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (বোর্ড স্কুল) থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর রায়পুর আলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে হাদিস শাস্ত্রে কামিল পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স (স্নাতক), মাস্টার্স, এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।
পেশাগত জীবনে ১৯৯৬ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৪ সালের এপ্রিলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, মানারাত ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ‘বাংলাদেশের দরিদ্র বিমোচন প্রচেষ্টায় মুসলিম এইড বাংলাদেশ-এর ভূমিকাঃ ইসলামী মডেলের একটি সমীক্ষা’ বিষয়ের উপর এম.ফিল এবং একই বিভাগ থেকে ‘বাংলাদেশের সমাজে ধর্মের ব্যবহার, অপব্যবহার, অসদ্ব্যবহার ১৯৯১-২০০১: ফাতওয়ার একটি রাজনৈতিক সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।
১৯৯৫ সালে ‘আমান’ নামে চ্যারিটি ভিত্তিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন যা এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত। সংস্থাটি দেশব্যাপী মানব কল্যাণ ও দারিদ্য বিমোচনের কাজ সুনাম সুখ্যাতির সাথে করে আসছে। ২০১৪ সালে বার্ডস নামে একটি শিক্ষা ও গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাতা এবং আমান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট (এসিটি) প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
মুহাম্মদ আবু ইউসুফের গবেষণা ও প্রকাশনার ক্ষেত্র বিস্তৃত। ইসলাম ও দারিদ্র বিমোচন, নারী অধিকার, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, ধর্মীয় নেতৃত্বের ভূমিকা, সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব বিষয়ে তাঁর একাধিক থিসিস, গবেষণা প্রবন্ধ রয়েছে। তিনি দৈনিক ইত্তেফাক, নয়াদিগন্ত, কালেরকণ্ঠ, আমার দেশ, যায়যায়দিন, সংগ্রাম পত্রিকায় কলাম লিখেন। বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য সেমিনার, প্রবন্ধ পাঠ, কর্মশালা, গোলটেবিল বৈঠক ও টিভি টকশো-তে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও সেমিনারের উদ্দেশ্যে আমেরিকা, বৃটেন, সৌদি আরব, তূরস্ক, মালয়েশিয়া, ভারত প্রভৃতি দেশ সফর করেন। দেশের বিভিন্ন গবেষণা, শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, নীতি-অধ্যয়ন ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ‘শরীয়াহ্ আইন ও দণ্ডবিধির প্রয়োগ’, ‘ফতোয়ার অপব্যবহারের নেপথ্যে’, ‘ইসলামে নারীর অধিকার ও চরমপন্থা’, ‘সমকালীন সমাজ ও রাজনীতি’, ‘বাংলাদেশের দরিদ্র বিমোচন প্রচেষ্টায় মুসলিম এইড বাংলাদেশ-এর ভূমিকা ঃ ইসলামী মডেলের একটি সমীক্ষা’ উল্লেখযোগ্য।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চার সন্তানের জনক। সহধর্মিনী নার্গিস ফারহানা (শিউলি) একজন শিক্ষক ও গবেষক।