মহান আল্লাহ্ তাঁর এই সুন্দর পৃথিবী পরিচালনার জন্যে দায়িত্ব
প্রদান করেন মানুষকে। পৃথিবীর খলিফা হয় মানুষ। পৃথিবী
পরিচালনার জ্ঞান দিয়েই মানুষকে পাঠানো হয় এখানে।
মানুষকে সত্য ও সঠিক পথে পরিচালিত করতে মহান আল্লাহ্
যুগে যুগে নবী-রসুল প্রেরণ করেন। নবুয়্যতি মালার প্রথম কড়ি
আদম আ. এবং সর্বশেষ কড়ি বিশ্বনবী মুহাম্মদ রসুলুল্লাহ সা.।
তিনি এসে ধ্বংসোন্মুখ মানুষকে অগ্নিগহ্বরের কিনারা থেকে
টেনে তোলেন। গড়ে তোলেন সুন্দর মানুষের নতুন পৃথিবী।
মন্দ সমাজকে বদলে দিয়ে সত্য সুন্দর ও অনাবিল ন্যায়নীতির
যে সোনালি সমাজ তিনি গড়ে গিয়েছিলেন, জানা পৃথিবীর
ইতিহাসে তা এক অনন্য, অপূর্ব ও অসাধারণ সমাজ ব্যবস্থা।
আধুনিক বিশ্বে আজ যে অন্যায় অনাচার হানাহানি ও রক্তপাত
চলছে, তার মূল কারণ- বিশ্বনবী মুহাম্মদ রসুলুল্লাহ্র সেই
অনিন্দ্য অনাবিল আদর্শ থেকে মানুষের বিচ্যুতি।
বিপর্যস্ত পৃথিবীর মুক্তি পাগল মানুষ সত্য, সুন্দর ও শান্তির
অণ্বেষায় আজ উদগ্রীব। আর সেই সত্য সুন্দর ও শান্তির
দিশা রয়েছে একমাত্র মুহাম্মদ রসুলুল্লাহর রেখে যাওয়া
আদর্শে। সেজন্যে স্বয়ং স্রষ্টার পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে:
لَ َق ْد ك َا َن لَكُ ْم يفِْ َر ُسو يل ا يلله أ ُ ْس َوةٌ َح َس َنة ٠
“অবশ্যি তোমাদের জন্যে আল্লাহ্র রসুল (মুহাম্মদ)-এর মধ্যেই
রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।” (সূরা ৩৩ আল আহযাব: আয়াত ২১)
সেই ‘সর্বোত্তম আদর্শ’ আজও অক্ষত অবিকল রয়েছে আল্লাহ্র
বাণী আল কুরআন এবং বিশ্বনবীর বাণী ও কর্ম আস্ সুন্নাহ্তে।
আমরা ইতিপূর্বে কুরআনে বর্ণিত পঁচিশের মধ্যে চব্বিশজন
নবীর জীবনীই লিখেছি আলাদা একটি গ্রন্থে। সেগুলো প্রকাশ
করা হয় ‘নবীদের সংগ্রামী জীবন’ শিরোনামে।
অতঃপর আল্লাহর অশেষ রহমতে ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের
মধ্যে তিনটি শিরোনামে তিনটি বই আকারে মুহাম্মদ রসুলুল্লাহ
সা.-এর জীবনীও প্রকাশ হয়ে যায়। বই তিনটি হলো:
১. আদর্শ নেতা মুহাম্মদ রসুলুল্লাহ সা. (১ম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০১১)
২. বিশ্ব নবীর শ্রেষ্ঠ জীবন (প্রথম প্রকাশ সেপ্টেম্বর ২০১১)
৩. বিশ্ব নবীর চুক্তি ও ভাষণ (প্রথম প্রকাশ এপ্রিল ২০১৫ )
বিশিষ্টজনদের পরামর্শে এখন উক্ত বই তিনটিকে একত্র করে
এই একটি গ্রন্থে প্রকাশ করা হলো। আগ্রহী সীরাত পাঠকগণ
এখন এই একই গ্রন্থ থেকে রসুলুল্লাহ সা.-এর পূর্ণাঙ্গ
জীবনাদর্শের সকল দিক ও বিভাগ এক নজরে দেখে নিতে
পারবেন। মুহাম্মদ রসুলুল্লাহ সা. স্বঘোষিত নেতা ছিলেন না।
তিনি ছিলেন আল্লাহর রসুল, আল্লাহ্ কর্তৃক নিযুক্ত নেতা।
কুরআন মজিদে আল্লাহ তায়ালা তাঁর তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্য
উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো:
১.তিনি আল্লাহর সর্বশেষ নবী, সর্বশেষ রসুল।
২.তিনি কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্ববাসীর জন্যে আল্লাহর রসুল।
৩.তিনি বিশ্ববাসীর জন্যে বিশেষ অনুকম্পা, রহমাতুল্লিল আলামিন।
সেজন্যে আল্লাহ পাক তাঁকে নিজ তত্ত্বাবধানে নিখুঁতভাবে
আদর্শ মানুষ ও আদর্শ নেতা হিসেবে গড়ে তোলেন।
তিনি ছিলেন সর্বগুণে গুণান্বিত পূর্ণাঙ্গ মানব বা ইন্সানে
কামিল (Perfect Man)।
ব্যক্তিত্বে, নেতৃত্বে, নৈতিকতায়; জ্ঞানে, গুণে, প্রজ্ঞায়; দয়ায়,
দক্ষতায়; সাহসে, শাসনে; সুন্দরে, সৌন্দর্যে; পুণ্যে, পবিত্রতায়;
দানে, দরদে; দারিদ্র্যে, ধৈর্যে; সততায় বিশ্বস্তায় সর্বোপরি সর্বগুণে
তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ এবং সর্বকালে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ নেতা।
এ গ্রন্থে আমরা রসুলুল্লাহ সা.-এর জীবনাদর্শের কিছু কিছু
উজ্জল আলোকবর্তিকা উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।
বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ করে ইসলামের
আলোকে সমাজ পরিবর্তনে সক্রিয় জনশক্তি বিশ্বনেতা মুহাম্মদ
রসুলুল্লাহ সা. এর জীবনের এই জীবন্ত ছবি পড়ে প্রাণবন্ত হবার
অঙ্গীকার গ্রহণ করলেই হবে আমাদের শ্রমের সার্থকতা।
আবদুস শহীদ নাসিম
জুলাই, ২০২৬