বিবর্তন তত্ত্বের অন্যতম ভিত্তি হলো জীবাশ্ম বা ফসিল রেকর্ড এবং বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে জিনগত সাদৃশ্য। মানুষসদৃশ বিভিন্ন জীবাশ্মকে মানব বিবর্তনের ধারাবাহিকতার পক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় কিন্তু জীবাশ্মগুলোর শারীরিক সাদৃশ্য থাকলেও প্রত্যক্ষ পূর্বপুরুষ হওয়ার প্রশ্নে ব্যাখ্যাগত বিতর্ক রয়েছে। অর্থাৎ মানুষের মত দেখতে জীবাশ্মের অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক নেই; বিতর্ক মূলত তারা সত্যিই মানুষের পূর্বপুরুষ কি না সেই প্রশ্নে।
এছাড়া মানুষ ও শিম্পাঞ্জির জিনোমের মধ্যে উচ্চমাত্রার মিলকে সাধারণ পূর্বপুরুষের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অথচ দীর্ঘকাল ধরে একই পরিবেশে বসবাস সত্ত্বেও মানুষ ও শিম্পাঞ্জির মধ্যে জ্ঞান, ভাষা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি এবং সভ্যতা গঠনের সক্ষমতায় মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, মানবসভ্যতার দ্রুত বিকাশের সময়কাল এবং আদম (আ.)-এর পৃথিবীতে আগমনের সম্ভাব্য সময়সীমার মধ্যে একটি সময়গত সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়।
প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা যায় যে কৃষির সূচনা, স্থায়ী বসতি, নগরায়ণ, ধাতুর ব্যবহার, লিখনপদ্ধতি এবং সংগঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থার বিকাশ প্রধানত গত ৮ থেকে ১২ হাজার বছরের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। অর্থাৎ আধুনিক মানবসভ্যতার দ্রুত বিকাশ তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যদি মানুষের পূর্বসূরি বা মানুষসদৃশ প্রজাতিগুলো কয়েক লক্ষ বছর ধরে পৃথিবীতে বিদ্যমান থেকে থাকে, তাহলে উন্নত সভ্যতার বিকাশ এত দীর্ঘ সময় পরে কেন ঘটল?
এসব তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তির নিরিখে এ গ্রন্থে অনুসন্ধান করা হয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর—মানব উৎপত্তির ব্যাখ্যায় বিবর্তন তত্ত্ব, নাকি আদম-হাওয়া (আ.)-কেন্দ্রিক সৃষ্টিতত্ত্ব, কোনটি অধিক যুক্তিসঙ্গত।
ডাঃ সৈয়দ শামসুল আরেফিন (সানি), ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন ২০০৩ সালে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে রেডিওলজী বিষয়ে এম.ডি ডিগ্রী সম্পন্ন করে সরকারী এবং বেসরকারী বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্বপালন করছেন। কোরআনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য তাকে আকর্ষণ করত। তিনি এ বিষয়ে ব্লগ এবং ফেইসবুকে লিখালেখি করছিলেন। এসব লিখালেখির অংশ বিশেষ নিয়েই বইটি রচিত। পাঠকদের মনে চিন্তার খােরাক যােগাবে ইন-শা-আল্লাহ।