এই বইটি কাদের জন্য? বইটি তাদের জন্য যারা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় যেতে চান এবং যারা বর্তমানে আমেরিকায় মাস্টার্স বা পিএইচডি করছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য আপনি আক্ষরিক অর্থেই সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে আমেরিকায় আসার পরিকল্পনা করছেন অথবা ইতোমধ্যে এসে পড়েছেন। আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পর আপনার জন্য কী অপেক্ষা করছে সেটা কি আপনার জানা উচিত নয়? এইচএসসি পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন অ্যাডমিশন টেস্ট দিয়ে সাবজেক্ট চয়েস করতে হয়েছে, তখন কিন্তু ঠিকই ভেবেছিলেন যে কোন সাবজেক্টে পড়লে পাশ করে দ্রুত ভালো চাকরি পাওয়া যাবে। তাহলে নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে পৃথিবীর আরেক প্রান্তে উচ্চশিক্ষার জন্য আসার আগে এটা জানা কি জরুরি নয় যে উচ্চশিক্ষা শেষে কী ধরনের চাকরি আপনি করতে পারেন বা সেগুলোর জন্য প্রিপারেশন কেমন হওয়া উচিত?
বইটি শুরু হয়েছে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কীভাবে আবেদন করতে হবে তা দিয়ে। প্রথম পরিচ্ছেদে জানতে পারবেন আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য কীভাবে আবেদন করতে হয়, আবেদন করতে কী কী লাগে, খরচ কীরকম হয়, ফুল স্কলারশিপ পেলে উপার্জন কেমন হয় এসব বিষয়। আমেরিকায় চলে আসার পরে শুরু হয় নতুন সামাজিক এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়া। এজন্য দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে কথা বলা হয়েছে আমেরিকায় আসার পর কীভাবে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেবেন, প্রফেসরের সাথে কীভাবে কমিউনিকেশন করবেন, প্রফেসরের সাথে সমস্যা হলে সেটা কীভাবে মোকাবিলা করবেন এসব নিয়ে।
উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে এখন আমেরিকায় গ্রিনকার্ড পাওয়া বেশ সহজ। গ্রিনকার্ড পাওয়ার ধাপগুলো কী কী, কীরকম খরচ হয় এসব নিয়ে তৃতীয় পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী পরিচ্ছদগুলোতে উচ্চশিক্ষার পর কী ধরনের চাকরির সুযোগ আছে সেটা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একাডেমিক চাকরি, প্রাইভেট কোম্পানি বা কর্পোরেট চাকরি (যা ইন্ডাস্ট্রি চাকরি নামে পরিচিত) এবং সরকারি চাকরি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কী ধরনের ইন্টারভিউ হয়ে থাকে, কয় ধাপে হয়ে থাকে, কী ধরনের প্রশ্ন করা হয়, কীভাবে নিজেকে তৈরি করা যায় এসব চাকরির জন্য, সেসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি যারা আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য আসতে চান এবং মাস্টার্স বা পিএইচডি ও তার পরবর্তী সঠিক কর্মসংস্থান নিয়ে ভাবছেন, বইটি তাদের জন্য উপযোগী একটি বই হবে।