সম্পাদকের কথা
সাহিত্য এক অনন্ত যাত্রা, যার পথ ধরে মানুষ খুঁজে ফেরে তার স্বপ্ন, বেদনা, প্রেম, সংগ্রাম ও ইতিহাসের অক্ষয় স্মৃতি। সেই যাত্রারই এক নতুন সংযোজন “শব্দতরী”। শব্দেই যার যাত্রা, শব্দেই যার গন্তব্য। ‘শব্দতরী শুধু বর্তমানের ইঞ্জিনচালিত ভটভট আওয়াজের তরী হতে চায় না, সে চায়Ñবাদাময়ালা আর গুণটানা মাঝির তরী হতে! শাওনের নহরে বৈঠার নালায় ছুটকি কাগজের তরীকেও সে ভুলতে চায় না!’
“শব্দতরী” সম্পূর্ণরূপে সাহিত্যের একটি অরাজনৈতিক ছোট কাগজ। তবে শব্দতরী নিরপেক্ষ নয়। শব্দতরীর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি ভাবনা আবহমান বাংলার ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পক্ষে। মানুষ, মানবতা, মানবাধিকার ও শান্তির পক্ষে। সকল প্রকার জুলুম-নির্যাতন, লাঞ্ছনা-বঞ্চনা ও যুদ্ধ-বিগ্রহের বিপক্ষে। এখানে যে শব্দ জন্ম নেবে, তা বিশ্ব-মানবতার হৃদয়-কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হবে। শব্দতরী বিশ্বাস করে, সাহিত্য কেবল অলঙ্কার নয়; এটি সময়ের স্বাক্ষর ও সাক্ষী, মানবমুক্তির অঙ্গীকার এবং সম্প্রীতির ইশতেহার।
এই সংখ্যায় আমরা স্থান দিয়েছি প্রবন্ধ, নিবন্ধ, কাব্যালোচনা, ভ্রমণকাহিনি, কবিতা ও ছোট গল্প। প্রতিটি রচনার ভেতর দিয়ে আমরা চেয়েছি পাঠক যেন খুঁজে পান চিন্তার দীপ্তি, অনুভবের উষ্ণতা, শিল্পের পরিশীলিত স্বাদ এবং সত্যের সন্ধান। কোনো কোনো লেখাকে সামান্য সম্পাদনার প্রয়োজন হয়েছেÑতবে আমরা সর্বদা সচেতন থেকেছি লেখকের নিজস্বতা অক্ষুণ্ন রাখার ব্যাপারে। কারণ আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সাহিত্যিকের কণ্ঠকে কখনোই শিকল পরানো যায় না।
বিশ্ব-সমাজে আজ যখন বিভাজন, হিংসা, বিদ্বেষ, নিষ্ঠুরতা ও কৃত্রিমতার ছায়া দীর্ঘ হচ্ছে, তখন সাহিত্য হয়ে উঠতে পারে আলোর পথযাত্রার দিগদর্শন। “শব্দতরী”র লক্ষ্য কেবল শিল্পচর্চার মাধ্যমে মানুষের অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত করা, বিজ্ঞানমনস্ক প্রগতিশীল চিন্তা উদ্দীপিত করা এবং দৈশিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে শান্তি ও মানবিক অগ্রগতির প্রচেষ্টাকে সাহিত্যের ভাষায় তুলে ধরা। আমরা চাই--এই ছোট কাগজ হোক ভাবনার আগুন, সৌন্দর্যের সোপান এবং মানুষে মানুষে সংযোগের সেতুবন্ধন।
এই তরী নতুন; এর দাঁড় টানতে গিয়ে হয়তো কিছু ত্রুটি রয়ে যাবে। কিন্তু আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পাঠকের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ ও সমালোচনার আলোকেই “শব্দতরী” প্রতিনিয়ত নতুন দিগন্তের দিকে যাত্রা করবে।
সম্পাদক