সুখ এবং দুঃখ হলো আপেক্ষিক বিষয়। আল্লাহ তায়ালা সুখ দিতে চাইলে কুঁড়েঘরে দিতে পারে, আবার দুঃখ দিতে চাইলে অট্টালিকার মধ্যেও দুঃখ দিতে পারে। দুনিয়া কোনো মানুষের জন্য চিরস্থায়ী ঠিকানা নয়, বরং আখেরাত হলো মানুষের জন্য চিরস্থায়ী ঠিকানা। দুনিয়া হলো মানুষের জন্য ক্ষণস্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র এবং আখেরাত হলো মানুষের জন্য চিরস্থায়ী ভোগের কেন্দ্র। যারা দুনিয়াতে নেক আমল করবে, তারা আখেরাতে পাবে জান্নাত এবং যারা দুনিয়াতে বদ আমল করবে, তারা আখেরাতে পাবে জাহান্নাম। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জন্য মানুষ কত চিন্তা করে এবং কত পরিশ্রম করে, কিন্তু চিরস্থায়ী আখেরাতের জন্য মানুষ চিন্তা করতে চায় না এবং পরিশ্রমও করতে চায় না। মানুষের মনে রাখা উচিত দুই চোখ দিয়ে মানুষ যা দেখে, সেটাই শেষ দেখা নয়, মৃত্যুর পরে প্রত্যেক মানুষের জন্য আরেকটা জগৎ আছে, সেটাই আসল জগৎ। সে জগতের শুরু আছে, শেষ নাই। দুনিয়াতে একজন মানুষ যত সম্পদ অর্জন করুক না কেন মৃত্যুর পর এক বিন্দু সম্পদও নিয়ে যেতে পারবে না, শুধু ইমান-আমল এবং এলেম নিয়ে যেতে পারবে। তাই মৃত্যুর আগেই ইমান, আমল এবং এলেমটাকে বিশুদ্ধ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালার কাছে সবার দোয়া করা উচিত, আল্লাহ যেন সবাইকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান করেন, আল্লাহ যেন সবাইকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে এবং জান্নাতের পরম শান্তি দান করে। জান্নাতের নেয়ামত হলো, সেখানে কেউ বৃদ্ধ হবে না, সবাই যুবক থাকবে। কেউ অসুস্থ হবে না, সবাই সুস্থ থাকবে। কেউ মৃত্যুবরণ করবে না, সবাই চিরকাল বেঁচে থাকবে।