মার্কেটিং ৭.০ হলো Marketing X.0 ধারাবাহিকের পঞ্চম গ্রন্থ, যা গত ১৬ বছরের বিপণন-চিন্তার ধারাবাহিক অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতোই প্রতিটি নতুন সংস্করণের নামকরণ করা হয়েছে, কারণ বিপণন কখনো স্থির নয়। বাজার যেমন পরিবর্তিত হয়, বিপণনকেও তেমনি পরিবর্তিত হতে হয়। তাই মার্কেটিং হলো একটি চলমান অভিযোজনের প্রক্রিয়া।
ডিজিটাল যুগের আগে বিপণনের প্রধান ভরসা ছিল গণবাজার (Mass Marketing)। তখন ব্যক্তিভেদে আলাদা বার্তা বা অফার দেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-কমার্স এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসারের ফলে ব্যবসার বড় একটি অংশ অনলাইনে স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে নির্দিষ্ট গ্রাহকগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আরও কার্যকর বিপণন পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
ডিজিটাল বিপণনের আরেকটি বড় অর্জন হলো বিপুল পরিমাণ ডেটা (Big Data)। গ্রাহকের প্রতিটি সার্চ, ক্লিক, লাইক, শেয়ার ও ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরও উন্নত হয়েছে। আজ AI সেই তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ করতে, ভবিষ্যৎ চাহিদা অনুমান করতে এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক (Personalized) বিপণন পরিচালনা করতে সক্ষম।
এখন AI শুধু ডিজিটাল জগতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাস্তব পরিবেশেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি (XR), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR)-এর মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে AI গ্রাহকদের জন্য আরও বাস্তবধর্মী, ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং নিমগ্ন (Immersive) অভিজ্ঞতা তৈরি করছে। ফলে বিপণন এখন আর শুধু সবার জন্য একই বার্তা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং প্রতিটি গ্রাহকের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
আজ বিপণন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। সেটি হলো কগনিটিভ সায়েন্স (Cognitive Science) বা মানুষের চিন্তা, উপলব্ধি, স্মৃতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিজ্ঞানকে বিপণনের সঙ্গে যুক্ত করা।
কগনিটিভ সায়েন্স নতুন কোনো বিষয় নয়। বহু বছর ধরে এটি মানুষের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু এতদিন এই জ্ঞানকে বৃহৎ পরিসরে বাস্তব বিপণনে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। কারণ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ছিল না।
এখানেই AI এবং ইমার্সিভ প্রযুক্তির গুরুত্ব। এই প্রযুক্তিগুলো কগনিটিভ সায়েন্সকে বাস্তব বিপণনে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ফলে এখন প্রতিষ্ঠানগুলো বৃহৎ পরিসরে ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং মনকেন্দ্রিক বিপণন পরিচালনা করতে পারছে।
এই অধ্যায়ে আমরা দেখব, কীভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইমার্সিভ প্রযুক্তি ধাপে ধাপে বিপণনের বিবর্তন ঘটিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত মার্কেটিং ৭.০-এর মাধ্যমে মানুষের মনকে বিপণনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।