ব্যবসার লক্ষ্য কি শুধু মুনাফা অর্জন, নাকি মানুষের জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা?
আজকের পৃথিবীতে গ্রাহক আর শুধু একজন ক্রেতা নন। তিনি একজন মানুষ—যাঁর চিন্তা, অনুভূতি, বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং স্বপ্ন রয়েছে। তাই সফল মার্কেটিং আর শুধু ভালো পণ্য বা আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে মানুষের হৃদয় স্পর্শ করার ক্ষমতার ওপর। মার্কেটিং ৩.০-এ আধুনিক মার্কেটিংয়ের জনক ফিলিপ কটলার, হারমাওয়ান কার্তাজায়া এবং ইওয়ান সেতিয়াওয়ান দেখিয়েছেন কীভাবে মার্কেটিং পণ্যকেন্দ্রিক (Marketing 1.0) থেকে গ্রাহককেন্দ্রিক (Marketing 2.0) এবং সেখান থেকে মানবকেন্দ্রিক (Marketing 3.0) এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।
এই বইয়ে লেখকেরা ব্যাখ্যা করেছেন কেন বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক, সামাজিক, প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত পরিবর্তন ব্যবসাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। তাঁরা দেখিয়েছেন কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান তার মিশন, ভিশন এবং মূল্যবোধ শুধু গ্রাহকের কাছেই নয়, কর্মী, অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের কাছেও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পৌঁছে দিতে পারে। একই সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে ব্যবসা দারিদ্র্য, বৈষম্য, পরিবেশগত সংকট এবং সামাজিক উন্নয়নের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাস্তব উদাহরণ, অনুপ্রেরণাদায়ক ধারণা এবং দূরদর্শী কৌশলে সমৃদ্ধ মার্কেটিং ৩.০ শুধু একটি মার্কেটিং বই নয়; এটি ব্যবসাকে আরও মানবিক, অর্থবহ এবং টেকসই করে তোলার একটি দৃষ্টিভঙ্গি। উদ্যোক্তা, করপোরেট নেতা, মার্কেটিং পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক নেতাদের জন্য এই বই হবে এমন একটি পথপ্রদর্শক, যা শেখায়—সত্যিকারের সাফল্য তখনই আসে, যখন ব্যবসা মানুষের জীবন ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।
ফিলিপ কোটলার (ইংরেজি: Philip Kotler) (জন্ম: ২৭ মে, ১৯৩১) শিকাগোতে জন্মগ্রহণকারী একজন মার্কিন বিপণন বিশেষজ্ঞ। তিনি মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট বই ছাড়াও আরও বিভিন্ন গ্রন্থের লেখক। তিনি এস.সি. জনসন এবং নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলোগ স্কুল অফ ম্যানেজমেন্টের ডিস্টিংগুইশ প্রফেসর। বিশ্বব্যাপী করপোরেট জগতে ড. ফিলিপকে মার্কেটিং জনক হিসেবে সম্মান করা হয়। নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইশ প্রফেসর ড. ফিলিপ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ১২টি সম্মানসূচক পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে পিএইচডি লাভ করেন তিনি। ১৯৯৮ সাল থেকেই প্রফেসর কোটলার বিশ্বের সেরা ৫০ জন ব্যবসায় ব্যক্তিত্বের মধ্যে অন্যতম।