সারাজীবন যে প্রদীপ নিজে পুড়ে অন্যকে আলো দিয়ে এসেছে, সেই প্রদীপ যদি আচমকা নিভে না গিয়ে এক প্রলয়ংকরী দাবদাহে রূপ নেয়—তবে তার তীব্র তাপে আশেপাশের সব আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যায়।
সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়া শওকত সাহেব ভেবেছিলেন, পৈতৃক সম্পত্তির আপস-বণ্টননামার মাধ্যমে চার মাস ধরে চলা পারিবারিক তিক্ততার বা সমস্যার সম্মানজনক অবসান ঘটেছে। কিন্তু এক ভোরের ভ্যাপসা গরমের সাথে তাঁর ঢাকার শান্ত ফ্ল্যাটে নেমে আসে এক অদৃশ্য ঝড়। ছোট ভাই ফরিদের এক রহস্যময় অনুপস্থিতি, আর মেজো ভাইদের স্ত্রীদের চোখের কোণে লুকিয়ে থাকা সেই চেনা লোভের মলিনতা—শওকত সাহেবের প্রখর বুদ্ধিমত্তাকে জানান দেয়, চক্রান্তের খেলা এখনও শেষ হয়নি!
যখন অফিসের ছুটির আড়ালে ফরিদের চট্টগ্রামের মিথ্যা নাটকের পর্দা ফাঁস হয়, যখন পুরানা পল্টনের এক অন্ধকার আন্ডারগ্রাউন্ড রেস্টুরেন্টের কেবিনে বসে কুখ্যাত গ্রাম্য দালাল মজিদের সাথে নতুন এক জালিয়াতির দলিল তৈরি হতে থাকে—তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেন না শওকত সাহেব।
এতদিন যে মানুষটির ভেতরের কান্না কেবল এক 'নীরব আর্তনাদ' হয়ে ঝরেছে, তিনি এবার এক অনমনীয় রুদ্রমূর্তিতে আবির্ভূত হন। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের শূন্য চেয়ার, মধ্যরাতের বিস্ফোরক পারিবারিক বৈঠক, আর অকৃতজ্ঞ ভাইবোনদের পিঠ বাঁচাতে গিরগিটির মতো রঙ বদলে একে অন্যকে বলির পাঁঠা বানানোর নোংরা খেলা—সবকিছুকে এক নিমেষে ধূলিসাৎ করে দেয় শওকত সাহেবের এক আইনি ও নৈতিক পাল্টা চাবুক।
রক্তের সম্পর্কের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আব্বার চিকিৎসার টাকা আত্মসাৎ আর প্রভিডেন্ট ফান্ডের জালিয়াতির যখন নগ্ন মুখোশ উন্মোচিত হয়, তখন শুরু হয় চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ। শওকত সাহেব কি পারবেন নিজের রক্তের মানুষদের এই পরম বিশ্বাসঘাতকতা ক্ষমা করতে? নাকি লোভ, বেইমানি আর অকৃতজ্ঞতার এই বিষাক্ত অন্ধকারকে চিরতরে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে প্রদীপের এক প্রলয়ংকরী 'দীপ্ত অভিঘাত'? এটি একটি মধ্যবিত্ত জীবনের চিরায়ত কুৎসিত চিত্র এবং এক আত্মত্যাগী মানুষের রাজকীয় ঘুরে দাঁড়ানোর এক শ্বাসরুদ্ধকর মনস্তাত্ত্বিক আখ্যান।
সফিকুল ইসলাম মমিন, পহেলা জানুয়ারি ১৯৬০ সালে কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলায় মাইজচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা- আলহাজ্ব মোঃ মহব্বত আলী মমিন, মাতা-মিসেস রতন বানু। তিনি ১৯৭৬ সালে রামকৃষ্ণপুর কে, কে, আর, কে হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৮সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে কৃষিতে স্নাতক এবং কৃষিতত্বের উপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুরে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতত্বের উপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
চাকুরী জীবনে অনেক দায়িত্বশীল পদে দায়িত্ব পাল শেষে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে অবসরে আসেন। ছোটকাল থেকেই কবিতা লিখার প্রতি তার আকর্ষণ ছিল। এরপর পড়াশোনা, চাকুরী জীবনের ব্যস্ততা থাকায় লেখালেখিতে ভাটা পড়ে। তবে ব্যস্ত জীবনেমাঝে মাঝে কিছুটা সময় পেলেই বিভিন্ন বিযয়ে কবিতা লিখে সংরক্ষণ করতেন যেগুলো কিছু কিছু এ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। ২০১৯ সালে অবসরে যাওয়ার পর হাতে সময় পান। আবারও কিছু লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। এ লেখাগুলোই এ কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে। পাঠক কর্তৃক সমাদৃত হলে সামনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আরও লিখার আশা।
ব্যক্তিজীবনে এক ছেলে (তামীম) ও এক কণ্যা (আনহা) এর জনক। স্ত্রী, লাভলী এর সহযোগিতা স্মরণীয়।