লেপচা শব্দ 'ফাৎসুভ্'-এর অর্থ মাটির কথা। দার্জিলিঙ-কালিম্পঙ পাহাড়ের গ্রাম-শহরের মাটি থেকে উঠে আসা এই নেপালি উপন্যাস ২০১৯-এ প্রকাশিত হওয়ার পরেই ব্যাপক সাড়া ফেলে। বাংলা ছাড়াও অনূদিত হয় ইংরেজি ও হিন্দিতে। এবার দার্জিলিঙ পাহাড়ের 'লালী গুরাস প্রকাশন' থেকে প্রকাশিত হল নতুন সংস্করণ।'অন্তহীন নেই-এর ভেতর দিব্যি বেঁচেবর্তে আছে এক সমগ্র জনসমুদায়, তাদের নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতি আর জীবনধারণের অন্য এক ধরন নিয়ে। এই বেঁচেবর্তে থাকা কোনো নতুন গল্প নয়। তারা আছে বহু কাল ধরে। যখন পাহাড় জমিন জরিপ হয়নি, সীমারেখা টানা হয়নি, তাদের অজান্তেই তাদের ভাগ্যরেখায় ঢ্যাঁড়া পড়েনি, সেই তখন থেকেই। যেন এতকাল তারা লুকিয়ে লুকিয়ে বেঁচে এসেছে সেই গ্রাম নদী পাহাড় আঁকড়ে। কেউ তাদের খবর রাখেনি। তারাও পরোয়া করেনি কারও খবরদারির। তারপর হঠাৎই ছুদেন নামে এক যুবক তাদের গল্প লিখে বই করে বসল। আর সকলকে জানিয়ে দিল তাদের কথা। তাদের ঘরের কথা। নদী পাহাড়ের কথা। আর তাদের মাটির কথা-ফাৎসু। আর সেই গল্প পড়ে আমরা অবাক হয়ে ভাবলাম, আরেব্বাস! এরাও ছিল!....অনুবাদের অনর্গলতা বেশ চমকপ্রদ। অনুবাদসাহিত্যে আড়ষ্টতা এমন একটি কাঁটা যা সহজে তুলে ফেলা যায় না। যিনি তা তুলে ফেলতে পারেন তিনি সার্থক অনুবাদক। শমীক চক্রবর্তী পেরেছেন। এক ভাষায় অন্য ভাষার গল্প পড়ার খচখচানি একেবারেই জাগে না পড়ার সময়।'- বিমল লামা, সাহিত্যিক 'এক অসম লড়াইয়ের ইতিকথা। বিশ্বাসঘাতকতার কাছে অসীম বীরত্বের হেরে যাওয়ার কথা। প্রায় তিন দশকের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন এই উপন্যাসের পটভূমি হলেও সার্বিক চিত্রটিকে ছুদেন পাহাড়জোড়া ভাস্কর্যে রূপ দিতে চাননি। তাঁর ক্যানভাস ছোট, কিন্তু গুহাচিত্রের মতো মরমী, আন্তরিক।' সাংবাদিক দেবাশিস আইচ,
কালিম্পঙ পাহাড়ের গ্রামাঞ্চলে লেপচা জনজাতি থেকে উঠে আসা তরুণ লেখক ছুদেন কাবিমো। নেপালি ভাষায় লেখালেখি করেন, ইতিমধ্যেই যা সমাদৃত হচ্ছে। পেশায় সরকারী চাকুরে। পাশাপাশি সাংবাদিকতা, লেখালেখির কাজও করেন। ওঁর লেখা ছোটগল্প সংকলন ‘১৯৮৬‘ যুব সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পায় ২০১৮ সালে। ফাৎসুঙ ওঁর প্রথম উপন্যাস, ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়।