এই বই বোদ্ধা পাঠকের জন্য নয়। এই বই কিশোর-তরুণদের বোদ্ধা পাঠক তৈরি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার আগ্রহ তৈরির জন্য। তাই খুবই সহজ ও সাবলীল ভাষায় তাদের জন্য একটি চিত্র অংকনের চেষ্টা করেছি, যাতে তারা সহজেই উপলব্ধি করতে পারে।
একজন মানুষ কম খেয়ে থাকতে পারে। কমদামি পোশাক নিয়েও খুশি থাকা সম্ভব। বিলাসবহুল কোনো উপকরণ ছাড়াই সম্মান নিয়ে আনন্দময় জীবন কাটানোও সম্ভব, কিন্তু স্বাধীনতা? স্বাধীনতা ছাড়া কি একজন মানুষ দামি খাবার, দামি পোশাক নিয়ে খুশি থাকতে পারে?
ধরো, তোমাকে যদি বলা হয় — কারাগারে থাকতে হবে, এর বিনিময়ে তুমি যত সুবিধা চাও, সব দেওয়া হবে। একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে এই অফার কি তুমি গ্রহণ করবে?
আমরা খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ, বিলাসী জীবন — এসবের জন্য কত পরিশ্রম করি, কিন্তু নিজের আত্মমর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন যেই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, তার ব্যাপারে কতটা মনোযোগী?
সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ — সামান্য এই দুটো শব্দের সাথে পরিচিত নয় এদেশের অধিকাংশ মানুষ। সেখানে কতশত আধিপত্যবাদ, আগ্রাসন আমাদেরকে স্বাধীনতার নামে পরাধীন করে রেখেছে, সে খবর কি থাকতে পারে? আমার জাতি শত জুলুমে জর্জরিত, কিন্তু তারা অজ্ঞতার সাগরে ডুবে নিজেদেরকে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে রেখে দিয়েছে যুগের পর যুগ ধরে।
এই সংকট সমাধানের অন্যতম পথ আজকের কিশোর-তরুণেরা। তারা সামষ্টিকভাবে ছোটোবেলা থেকে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যৎ পরিবর্তন হতে বাধ্য। সেজন্য আগ্রাসনবাদীদের তালিকা থেকে শিশু-কিশোররাও বাদ পড়েনি।
আচ্ছা, একটা ২ বছরের শিশুর নাগালে যদি একটি বিষধর সাপ চলে আসে, তাহলে অধিক সম্ভাবনা হলো — বাচ্চাটি খেলনা ভেবে সাপটিকে ধরতে যাবে। তাই না? বাচ্চাটি কিন্তু বোঝেই না — এই সাপে কামড়ালে সে মারা যাবে। তাই বলে সাপে কামড়ালে কি সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না? অবশ্যই হবে।
তেমনি আমাদের ক্লাস ৬-১০ পড়ুয়া ছেলেটি সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদীদের বিভিন্ন আগ্রাসনের সামনে অবুঝ হলেও তারা নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হচ্ছে। কিন্তু এই বয়সে তাকে সতর্ক করার মতো কিংবা নিরাপদ করার মতো এন্টিভেনম — অর্থাৎ কিশোররা সহজে বুঝতে পারার মতো বইপত্র খুবই কম রচিত হয়েছে। যেগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো আসলে একটু উঁচু ক্লাসে না উঠলে বুঝতে পারা কঠিন। আসলে এটাই বাস্তবতা। এসব বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়গুলো