অতীতের দায় কি মুছে ফেলা যায়? নাকি অপরাধবোধ আর প্রায়শ্চিত্তের আগুনে পুড়তে হয় আজীবন?
টোকিও'র সুমাইদা নদীর তীরে রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত একটা গাড়ির ভেতর থেকে আবিষ্কৃত হয় খ্যাতনামা আইনজীবী কেনসুকে শিরাইশি'র মরদেহ। তদন্তের দায়িত্ব চাপে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের হোমিসাইড ব্যুরোর ডিটেকটিভ সুতোমু গোদাইয়ের কাঁধে। দলবল নিয়ে তদন্ত করে খুব দ্রুতই তাতসুরো কুরাকি নামের একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় সে। জিজ্ঞাসাবাদে সবকিছু স্বীকার করে নেয় লোকটা। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে যখন সপ্তাহখানেক আগে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ত্রিশ বছর আগের আরেকটি খুনেরও দায়ভার স্বীকার করে কুরাকি।
এদিকে খুনের দায়ে গ্রেফতার হওয়া কুরাকি'র ছেলে কাযুমা বুঝতে পারছে না তার বাবা এরকম একটা কাজ করল কী করে? ছোট থেকে কি তাহলে এক খুনির সাথে বড় হয়েছে ও? কখনো তো সেরকম কিছু টের পায়নি!
আবার ভিক্টিম, কেনসুকে শিরাইশি’র একমাত্র কন্যা মিরেই-ও বাবার এই হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারছে না। খুনি জবানবন্দিতে বলেছে, শিরাইশি সব অপরাধ স্বীকার করে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন তাকে। কিন্তু তাঁর এরকম কিছু করার কথা নয়। কাউকে কোণঠাসা করে কিছু করানোর মানুষ ছিলেন না ওর বাবা।
আসুনারো রেস্তোরাঁর আসাবা মা-মেয়েরই বা এসবের সাথে কী সম্পর্ক?
শেষ পর্যন্ত ডিটেকটিভ গোদাই এবং ঘটনার দুই মেরুতে থাকা অভিযুক্তের ছেলে কাযুমা আর নিহতের কন্যা মিরেই—প্রত্যেকেই নেমে পড়ে সত্যের সন্ধানে। তাদের ব্যক্তিগত অনুসন্ধান যখন একই বিন্দুতে এসে মেশে, তখন একে একে বেরিয়ে আসে এমন সব সত্য, যা পাল্টে দেয় পুরো দৃশ্যপট।
অপরাধবোধ, দায়মোচন, আইনের সীমাবদ্ধতা, সামাজিক অবক্ষয় এবং রহস্যের নতুন এক আখ্যান ‘গিল্ট’।
কেইগো হিগাশিনো (জন্ম: ফেব্রুয়ারি ৪, ১৯৫৮, ইকুনো ওয়ার্ড, ওসাকা, জাপান) একজন জাপানি লেখক প্রধানত তার রহস্য উপন্যাসের জন্য পরিচিত। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাপানের রহস্য লেখকের ১৩ তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।