রিযিকের অন্বেষণ অনেক মুসলিমের অন্তরকে মশগুল করে রাখে। মুসলিমদের মধ্যে অনেকে মনে করে যে, ইসলামকে আঁকড়ে ধরলে তাদের রুযী কমে যাবে। এ কথা এখানেই শেষ নয়; বরং এর চেয়ে মারাত্মক ও তিক্ত কথা হচ্ছে, কতিপয় মানুষ যারা ইসলামের কিছু ফরয কাজ করে থাকে তারাও ধারণা করে যে, আর্থিক সচ্ছলতার জন্য ইসলামের কিছু বিধান বর্জন করা জরুরি।
ঐ সকল মানুষ ভুলে যাক অথবা ভুলের ভান করুক (তাদের জানা প্রয়োজন) যে, আমাদের স্রষ্টা মানব জাতিকে কেবল আখিরাত ও আখিরাতে তাদের সুখময় জীবনের দিক নির্দেশনার জন্য দ্বীনকে নির্ধারণ করেননি বরং তাদেরকে তাদের ইহজগতে জীবিকা ও শান্তির জন্যও ঐ দ্বীনকে নির্ধারণ করেছেন। ইসলামের নবী বিশ্ব প্রতিপালকের প্রিয় ব্যক্তি (মুহাম্মদ ﷺ) যাঁকে আল্লাহ মানব জাতির নমুনা বানিয়েছেন তিনি বেশি বেশি এই দুআ করতেন:
অর্থাৎ হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ প্রদান করুন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচান।
মুসলিম জাতি রিযিক ও জীবিকা অন্বেষণের সময় অন্ধকারে হাবুডুবু খাক আর হয়রান হোক—এমন অবস্থায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মুসলিম জাতিকে ছেড়ে দেননি। বরং জীবিকা উপার্জনের পথ বলে দেওয়া হয়েছে। মুসলিম জাতি যদি তা বুঝতো, সংরক্ষণ করত, আঁকড়ে ধরত এবং সঠিকভাবে তা ব্যবহার করত তবে মহা শক্তিশালী রিযিকদাতা (আল্লাহ) তাদের জন্য সবদিক থেকে জীবিকার পথ সহজ করতেন এবং আকাশ থেকে বরকতের দরজা খুলে দিতেন।
জীবিকা উপার্জনের যেসব পথ বা উৎস রয়েছে তা মুসলিম ভাইদের তথা যারা তা বুঝতে ভুল করেছেন অথবা যারা রিযিক অন্বেষণের ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিমুখ হয়েছেন তাদেরকে স্মরণ করা ও জানানোর উদ্দেশ্যে আল্লাহর তাওফীকে এই পুস্তিকার নামকরণ করা হয়েছে, “রিযিকের চাবিকাঠিসমূহ”