এই গ্রহের প্রতিটি মানুষ আচরণের দিক থেকে স্বতন্ত্র ও রহস্যময়। তাই হাজারো রহস্যে ঘেরা মানুষের মন পড়া খুব সহজ কাজ নয়। তবে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় ও মানসিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত ধারাবাহিক গবেষণা এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রয়োগ করে, অধ্যবসায় আর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারলে আমরাও অন্যদের মন পড়ার ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে পারি।
আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, গভীর অন্তর্দৃষ্টি, সঠিক জ্ঞান-অন্বেষণ আর ক্রমাগত চর্চার মাধ্যমে আমরা নিজেদের মধ্যে এই গুণটির সমাবেশ ঘটাতে পারি। সেই লক্ষ্য পূরণে বইটি অনবদ্য এবং উপযুক্ত দিকনির্দেশনামূলক।
আবেগ, আচরণ, স্বভাব, মূল্যবোধ, সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সচেতনভাবে জেনে অন্যের ভিতরে লুকিয়ে থাকা বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেতে বইটি অসাধারণ। এটি বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ভবিষ্যতের জন্যও নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণামূলক।
“রিড্ পিপল্ লাইক এ বুক ” গ্রন্থটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও বাক্যালাপ প্রশিক্ষক -প্যাট্রিক কিং -এর দীর্ঘ গবেষণার সমন্বিত উপস্থাপন। ইংরেজি ভাষায় লিখিত ব্যাপক জনপ্রিয় এই বইটি ইতিমধ্যে দশ লক্ষেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। মনোবিদ ও অনুবাদক “আশরাফ মিঠু” তাঁর নিবিড় নিষ্ঠা আর যত্নের সমন্বয়ে বইটির বিশুদ্ধতা রক্ষায় সচেষ্ট থেকেছেন। তিনি ইতিপূর্বে “থিংক লাইক এ সাইকোলজিস্ট” শিরোনামে এই লেখকের আরও একটি বই ভাষান্তর করেছেন যা বেশ পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
“ছায়া” এবং “মনের শিশু” ব্যক্তিত্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা প্রতিটি মানুষকে প্রায় সারাজীবন পরিচালনা করে। বইটিতে আলোচিত এদুটি বিষয় পাঠককে ভিন্ন এক সত্যের সামনে দাঁড় করাবে। বিষয়বস্তু ও সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বলা যায় যে, মনোবৈজ্ঞানিক দর্শন ও গবেষণার ক্ষেত্রে বইটি বহুসময় ধরে দ্যুতি ছড়াবে।
বইটি পড়ে সঠিকভাবে অনুশীলন করতে পারলে আপনি মিথ্যাবাদী চিনতে পারবেন, মিথ্যাবাদীর জাল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবেন। এছাড়া অনলাইনে হঠাৎ পরিচিত হওয়া ব্যক্তিকে এমনভাবে পড়তে পারবেন, যা আপনাকে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।