কিছু গল্প লেখা হয় কল্পনা দিয়ে, আর কিছু গল্প জন্ম নেয় অনুভূতির গভীরতা থেকে। নীল অপরাজিতা আমার কাছে তেমনই এক সৃষ্টি; যেখানে কল্পনার রঙ আছে, আবার বাস্তব জীবনের স্পর্শও আছে। এই বইয়ের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি সংলাপ, প্রতিটি নীরবতা আমার হৃদয়ের খুব কাছের।
এই উপন্যাসে আমি কোনো নিখুঁত মানুষের গল্প বলিনি; বলেছি স্বপ্ন দেখা, হারিয়ে যাওয়া, অপেক্ষা করা, ভুল বোঝাবুঝি, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর আত্মত্যাগে ভরা সাধারণ জীবনের গল্প। এমন কিছু অনুভূতির গল্প, যা হয়তো আমাদের অনেকের জীবনেই কোনো না কোনোভাবে এসে গেছে। কখনো আমরা কারও হাত ধরে পথ চলেছি, কখনো সময়ের কাছে সেই হাত হারিয়েছি; কিন্তু স্মৃতিগুলো থেকে গেছে আজীবন। সেই স্মৃতিরই এক টুকরো প্রতিচ্ছবি নীল অপরাজিতা।
‘অপরাজিতা’ এটি আমার কাছে এক অদম্য অনুভূতির প্রতীক। যে অনুভূতি ভেঙে যায়, তবু হার মানে না; দূরে সরে যায়, তবু হৃদয়ের গভীরে নীরবে বেঁচে থাকে। তাই এই নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে উপন্যাসের আত্মা। আমি জানি, এই বই নিখুঁত নয়। একজন লেখক হিসেবে আমারও সীমাবদ্ধতা আছে। তবু আমি চেষ্টা করেছি গল্পটিকে হৃদয় দিয়ে বলতে। পাঠকের হাতে বইটি তুলে দেওয়ার আগে আমার একটাই চাওয়া যে, আপনারা গল্পটিকে শুধু পড়বেন না, অনুভব করবেন। কোথাও হয়তো নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাবেন, কোথাও কোনো হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা মনে পড়ে অজান্তেই চোখ ভিজে উঠবে, কোন সংলাপ আপনাকে থমকে দিবে আবার কোথাও নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পাবেন- তবে আমার লেখার সার্থকতা সেখানেই।
এই বইয়ের প্রতিটি পাতায় যারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে অনুপ্রেরণা হয়ে পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আর আমার প্রিয় পাঠকদের জন্য রইল অফুরন্ত ভালোবাসা। আপনাদের ভালোবাসা, মতামত ও সমালোচনাই আমাকে আরও ভালো লিখতে সাহস জোগাবে।