সেন্ট্রাল টোকিওর এক নদীর ধারে পাওয়া গেল আইনজীবী কেনসুকে শিরাইশির লাশ। তদন্তে নামলেন টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের হোমিসাইড ডিটেকটিভ গোদাই। সূত্রের সন্ধানে তিনি পৌঁছালেন তাতসুরো কুরাকি নামের এক ব্যক্তির কাছে। কুরাকি দাবি করলেন, শিরাইশির সাথে তার পরিচয় ছিল নামেমাত্র।
কিন্তু তদন্তকারীদের অবাক করে দিয়ে কুরাকি ঐ আইনজীবীকে খুনের কথাই স্বীকার করে নিলেন। একই সাথে নিজের কাঁধে তুলে নিলেন ত্রিশ বছর আগের আরেকটি খুনের দায়ও! সেই খুনের অভিযোগে তখন অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বিচারের আগেই হাজতে তার মৃত্যু হয়।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হলো দুটো কেসেরই সুরাহা হয়ে গেল। সমস্যা একটাই। ডিটেকটিভ গোদাইয়ের মনের খটকা কিছুতেই দূর হচ্ছে না। তাঁর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলছে, কুরাকির এই স্বীকারোক্তি আগাগোড়া সাজানো।
ডিটেকটিভ গোদাই একা নন, কুরাকির দেওয়া খুনের ব্যাখ্যা আর মোটিভ মেনে নিতে পারছেন না আরও দুজন। তারা হলেন খোদ সেই খুনির ছেলে এবং ভিক্টিমের মেয়ে। তাদের দুজনেরই দৃঢ় বিশ্বাস যে, এই অপরাধ এবং তার পেছনের উদ্দেশ্য সবই মিথ্যে।
তদন্ত যতই গভীরে গড়ায়, গোদাই আবিষ্কার করেন, ত্রিশ বছর আগের সেই কেস আর বর্তমানের এই খুনের সম্পর্ক বড়ই জটিল। কে দোষী, কে নির্দোষ এটা আর সোজাসাপ্টাভাবে বলার উপায় থাকে না। পাপ আর প্রায়শ্চিত্তের সমীকরণ মেলানো সোজা নয়।
ডিটেকটিভ গোদাই সিরিজের প্রথম উপন্যাস ‘গিল্ট’ এমন এক ক্রাইম নভেল যা শুধু অপরাধ নিয়ে কথা বলে না। ভিক্টিম আর অপরাধী, উভয় পক্ষের স্বজনদের ওপরই এর ভয়ানক এক প্রভাব পড়ে। সেই দগদগে ক্ষতকে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন হিগাশিনো। কাহিনীর বাঁকে বাঁকে রহস্য আর চমকে ঠাসা এই উপন্যাস পাঠককে স্তম্ভিত করতে বাধ্য।
কেইগো হিগাশিনো (জন্ম: ফেব্রুয়ারি ৪, ১৯৫৮, ইকুনো ওয়ার্ড, ওসাকা, জাপান) একজন জাপানি লেখক প্রধানত তার রহস্য উপন্যাসের জন্য পরিচিত। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাপানের রহস্য লেখকের ১৩ তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।