এ গল্পটি লেখা শুরু হয়েছে সেই কিশোর বয়স থেকে, তবে শুধুই মাথায়। গল্পের খণ্ড-বিখণ্ড মস্তিষ্কে ঘুরপাক খেতো সব সময়। তাই বলে এটা কিশোর উপন্যাস নয় কিন্তু। বয়সের সাথে সাথে এর ঘটনাক্রম যেমন পাল্টে গেছে, চরিত্রগুলোর প্রতিরূপেরও আমূল পরিবর্তন হয়েছে। স্মৃতি ও পুষ্পকথাই আসলে আমার প্রথম উপন্যাস। যদিও ইতিমধ্যে তিনটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে, তবে কল্পনা থেকে লেখনীর সাদা-কালোয় এটাই প্রথম আসে।
আমাদের প্রজন্ম, অর্থাৎ মিলেনিয়ালস যাদের বলা হয়, তারা পরিবর্তনশীলতার মাঝে বড় হওয়া প্রজন্ম। যৌথ পরিবার থেকে একক পরিবারে যাওয়া, অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রতিস্থাপন, দল বেঁধে মাঠে-ঘাটে খেলা থেকে শুরু করে ঘরের কোনায় ভিডিও গেমস খেলা, এসব পরিবর্তনশীলতার সাথে উপযোজন করে বেড়ে উঠেছে এই মিলেনিয়ালস।
আমাদের আগের প্রজন্মের মানুষেরা অবশ্য বলতেই পারেন যে, পরিবর্তনগুলো তারাই এনেছেন, আর আমরা সকল পরিবর্তনের ফল ভোগকারী ভাগ্যবান। উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় দুটি পরিবর্তনের সাক্ষী আমরা নই। আমরা ভারতবর্ষের ভাগ দেখিনি, পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশ হতে দেখিনি, শুধু গল্প শুনেছি। আমরা কোনো পরিবর্তন আনতে পারছি কি না, তা আগামী প্রজন্ম বলতে পারবে, তবে বর্তমানে আমরা শুধুই গল্প শোনা প্রজন্ম।
মেনে নিচ্ছি তাদের কথা। সত্যি বলেছেন তারা। তবে আমরা ভাগ্যবান আরও একটি কারণে। এত বেশি সংখ্যক মামা মাসি চাচা পিসি পাওয়া বোধ হয় আগামীতে আর কারও ভাগ্যে জুটবে না। ব্যক্তিগতভাবে আমি ভাগ্যবান, কারণ পিতামহ-মহী, মাতামহ-মহী এই চারজনের সান্নিধ্যেই বেড়ে ওঠার সৌভাগ্য হয়েছে আমার, যা হয়তো অন্য ভাইবোন-কাজিনদের হয়নি।
আমি বলতে চাই, আমি কৃতজ্ঞ আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের প্রতি। তাদের সকলের স্মৃতিকথা ও গল্পগুলো আমাকে বড় টানে। ওই টানের মাঝে একটা গর্ববোধ আছে আমার। স্মৃতি ও পুষ্পকথার মধ্যে আমার সে মনোভাব লক্ষ করবেন। এই গল্পেও প্রজন্মের আবর্তন আছে। এর সময়কাল ইতিহাস থেকে নেওয়া হলেও স্থান ও পাত্র-পাত্রী কল্পনা থেকে নেওয়া। ধর্ম নিয়ে জটিলতা আছে, যা এদেশের ইতিহাসে বা গল্পে বারবার উঠে এসেছে। তবে সব ঘটনা যেহেতু কল্পনাশ্রিত, তাই জীবনবোধ নিয়ে যদি কোনো দ্বিমত থাকে, তাহলে ধরে নিন না যে, সবকিছুই কোনো এক সমান্তরাল জগতের আপেক্ষিকতা?
বলে রাখা ভালো, স্মৃতি ও পুষ্পকথা আমি একটি বইয়ে সমাপ্ত করতে পারিনি। এটা একটা ট্রিলজি বা ত্রয়ী উপন্যাসের প্রথম পর্ব হিসেবে প্রকাশ করা হলো।