শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৩৯ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম এডুকেশনাল কনফারেন্সের সভাপতির ভাষণে মুসলিম শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার সংকট গভীরভাবে তুলে ধরেন। তিনি বাংলার মুসলিম শিক্ষিত শ্রেণীর সঙ্গে ভারতের অন্যান্য প্রদেশের মুসলমানদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্ছিন্নতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেরে বাংলা মনে করেন, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগত স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক স্বায়ত্তশাসন। তাঁর মতে, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও অভিন্ন লক্ষ্য ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন প্রায় অসম্ভব। তিনি সতর্ক করে বলেন, মুসলিম সংস্কৃতি ও ইসলামি ঐতিহ্যকে মুছে দিয়ে তার স্থলে হিন্দু সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি ইসলামি শিক্ষা, ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান, জাতীয় শিল্প এবং জাতীয় সংস্কৃতির স্বাধীন বিকাশকে মুসলিম সমাজের মূল লক্ষ্য ও আদর্শ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ভারতের মুসলমানদের শিক্ষার মূলমন্ত্র সম্পর্কে তিনি তিনটি বিষয় উল্লেখ করেন- (১) স্বাধীনতা, (২) ঐক্য এবং (৩) উন্নয়ন। তাঁর মতে, যে শিক্ষা ব্যবস্থা মুসলমানদের ভাষা, সংস্কৃতি, শরিয়াহ ও ঐতিহ্যের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে না, তা মুসলমানদের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মুসলিম নারী সম্পর্কে শেরে বাংলা বলেন, একজন নারীর প্রধান দায়িত্ব একজন আদর্শ মুসলিম মা হিসেবে গড়ে ওঠা। তাঁর ভাষায়, জাতির রক্ষা ও বিকাশে নারীরা একেকটি সুরক্ষিত দুর্গের ভূমিকা পালন করেন।
১৯৩৯ সালে কলকাতার মোহাম্মদ আলী পার্কে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক উর্দু ভাষায় যে ঐতিহাসিক বক্তৃতা প্রদান করেন, তা পরবর্তীকালে ‘খুতবায়ে সদারাত’ নামে প্রকাশিত হয়। দীর্ঘদিন অপ্রকাশিত ও দুর্লভ এই বক্তৃতার উর্দূ পাঠ সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রের একজন অধ্যাপক সহযোগিতা করেন। গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন কাজী একরাম। বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের নাতনি এ. কে. ফ্লোরা।