আবর্তন
কাগুজে লিপির এ জীবনে অঙ্কিত হয়েছে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, বাংলাদেশের খুব সাধারণ এক গ্রাম— নকশিপুরের ছবি। নানান রঙের আঁচড়ে ফুটে উঠেছে নকশিপুরের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে তার নিষ্পাপ শৈশব, বালখিল্য কৈশোর আর উত্তাল যৌবনের বৈচিত্র্যময় রূপ।
জোয়ারের বানে তীরে ভিড় করা পলির বুকে যিনি সযতনে বুনেছিলেন নকশিপুরের বীজ, ভাটার টানে সে স্বপ্নসারথি হয়ে গেলেন অস্তিত্বহীন। কিন্তু দূরদর্শী দৃকপাল ভবিষ্যতের জন্য নিজের বীজ বুনে যাবেন না—এও সম্ভব?
কালচক্রে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হওয়াই এ প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম। ভাটাই গল্পের সমাপ্তি নয়, তার ঠিক পরই অপেক্ষা করছে কল্লোলিনী জোয়ার। পুনরাবর্তিত সে আখ্যানের নামই—আবর্তন!
সুবর্ণসার
কিছু ভালোবাসা অন্যরকম হয়। তারা আবৃত থাকে, অনাবিষ্কৃত রয়ে যায়। কেউ কেউ চিনতে ভুল করে তার স্বরূপ। আবার কিছু ভালোবাসার জন্ম বিরূপতায়। আপাত বিতৃষ্ণার দেয়াল চিরে নামগোত্রহীন ফুলের মতো তারা ফোটে। সেই ফুলগুলো কেউ ফুলদানিতে জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখে না।
নিভৃত পল্লির জল-কাদা মেখে বড় হতে থাকা গ্রাম্য বালিকা ফাতেমা। নিদারুণ উপেক্ষিত জীবন অমূল্য পুষ্পসম প্রস্ফুটিত হলো একদিন। হৃদয়কন্দরে উপেক্ষিত ভালোবাসা আলো ছড়াল অজান্তেই।
কেউ জানল না, কেবল সুবর্ণসারার সরস জমিন তার গল্পগুলো লিখে রাখল ‘সুবর্ণসারা’য়।
পুষ্পিতা
নানান রং, ভিন্ন ভিন্ন সুবাস ও বৈচিত্র্যময় ফুলের সমাবেশেই একটি বাগান পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তেমনই পঁচিশ জন লেখিকার নিজস্ব চিন্তা, মনের গভীর অনুভূতি ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে প্রস্ফুটিত হয়েছে—‘পুষ্পিতা’। যার নামেই লুকিয়ে আছে ফুটে থাকার অনিন্দ্য সৌন্দর্য।
বইটির গল্প, প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণ ও সফরনামার শব্দে শব্দে উঠে এসেছে জীবন, সমাজ, আত্মোপলব্ধি, স্বপ্ন, সংগ্রাম, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের এক জীবন্ত কোলাজ। প্রতিটি লেখায় রয়েছে লেখিকাদের নিজস্ব ভাষা, দৃষ্টিভঙ্গি ও অনুভূতির স্বতন্ত্র ছাপ। কোথাও আছে ভাবনার গভীরতা, কোথাও আবেগের মৃদু স্পর্শ, আবার কোথাও অবাধ্য অনুপ্রেরণার দীপ্ত আহ্বান।
আমাদের বিশ্বাস, পুষ্পিতার ফুলগুলো পাঠকের মনকে ছুঁয়ে দেবে, ভাবাবে, অনুপ্রাণিত করবে এবং বুকের গভীরে গেঁথে দেবে আশ্চর্য অপার্থিব এক দৃশ্যকল্প ও কল্পনার মায়াবী ছবি...