ভেবেছিলেন মরে গেলেই সব শেষ? জীবনের সব প্যারা থেকে চিরস্থায়ী মুক্তি? বস বা বউয়ের ঝাড়ি পুরোপুরি মাফ? ভুল! চরম, আপাদমস্তক, ওয়ার্যান্টিসহ ভুল!
গল্পটা হাবলুর। সদ্যোজাত, সহজ-সরল এক মাসুম ভূত—নাক টিপলে এখনো ভূতুড়ে দুধ বের হয় টপটপ করে! সেই দুধ দিয়ে চাইলে হাবলু-দই, হাবলু-ছানা, এমনকি এক্সপোর্ট কোয়ালিটির হাবলু-পনিরও বানানো যায়। টিকটকে ভাইরাল হতে গিয়ে কলার খোসায় পিছলে পটল তুলে সোজা পরপারে এন্ট্রি। হাবলু ভেবেছিল, মরে গিয়ে ভূত হিসেবে অন্তত শান্তিতে একটু বাতাসে ভাসবে আর পাখিদের সাথে গাইবে: হাওয়া হাওয়া, ও হাওয়া... কিন্তু মরলেই কি আর সব সমস্যার শেষ, হাবলু বাছাধন?
ঠিক তখনই হাবলু আবিষ্কার করে, ভূত সমাজেও ভালো গাছে পোস্টিং পেতে আইইএলটিএস (IELTS)-এ অন্তত ৭.০ লাগে! তার 'সততায় ব্যান্ড নাইন' থাকলেও, ইংরেজিতে দৌড় ওই সলিড ৩.০ পর্যন্তই। এদিকে তার ৭.৫ স্কোর পাওয়া স্মার্ট, গ্ল্যামারাস পেত্নী-বউ নিলুর আল্টিমেটাম—হলিউডে ব্র্যাড পিটের বাথরুমে পোস্টিং না পেলে সোজা ডিভোর্স (ঈদের পরে)! শ্বশুরের মেইনটেইন করা 'মর্যাদা খতিয়ান'-এ হাবলুর স্কোর মাইনাস ১৪৭, আর বেস্ট ফ্রেন্ড বল্টু হাবুডুবু খাচ্ছে হতাশার সাগরে।
পদে পদে প্যারা, প্রেস্টিজ নিয়ে টিকে থাকা দুষ্কর। তার ওপর ভূত সমাজে যদি হাজির হয় লোকাল মাফিয়া কর্কট ভূত আর গ্লোবাল মাফিয়া মিস্টার জিরো, তাহলে অবস্থা কী দাঁড়ায়? ভেজাল দীর্ঘশ্বাস, স্পাউস ভিসায় কানাডিয়ান পেত্নী স্ক্যাম, চাপিলা ছায়া আর ভেজাল ভয় দিয়ে তারা পুরো সিস্টেমটাকেই গিলে খেতে চাইছে। এর মধ্যে আবার বাজারে এসেছে ব্যাটারি-চালিত চাইনিজ ভূত—স্মার্ট আর এফিশিয়েন্ট। তাদের দৌরাত্ম্যে হাবলু আর তার সঙ্গী-সাথী পোড়াকপালী বাংলাদেশী ভূতগুলো কি পারবে ওদের নিখুঁত পারফরম্যান্সের সাথে পাল্লা দিতে? নাকি গাধাগুলো বাংলাদেশের মান-সম্মান ডোবাবে?
এই মাফিয়া, আমলাতন্ত্র আর পারফেক্ট অটোমেশনের যাঁতাকলে হাবলুর জীবনটা কি একেবারেই ত্যানা ত্যানা হয়ে যাবে? নাকি 'ত্যানা-ভূত' ক্যাটাগরিতে নাম লিখিয়ে হলেও নাছোড়বান্দা হাবলু টিকে যাবে এই ত্যানাপুরে?