এই সম্পাদিত গ্রন্থটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল অধ্যায়কে নতুন করে পাঠকের সামনে উন্মোচিত করার প্রয়াস। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবনাবসানের আগে ও পরবর্তী সময়কে ঘিরে যে রাজনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার বহুমাত্রিক প্রতিফলন এখানে সংকলিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত পত্রিকার লেখাগুলোর মাধ্যমে। এই লেখাগুলো শুধু ঘটনাপুঞ্জের বর্ণনা নয়, বরং সময়ের স্পন্দন, মানুষের উদ্বেগ, ক্ষমতার অন্তর্লীন টানাপোড়েন এবং রাষ্ট্রচিন্তার বিবর্তনকে ধারণ করে।
গ্রন্থটিতে অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণ, বিশ্লেষণধর্মী রচনা ও প্রতিবেদনগুলো পাঠককে নিয়ে যাবে সেই সংকটময় মুহূর্তগুলোর গভীরে- যেখানে ব্যক্তির মৃত্যু রাষ্ট্রের ইতিহাসে এক অনিবার্য মোড় তৈরি করে। হত্যাকাণ্ডের পূর্বাপর প্রেক্ষাপট, তৎকালীন রাজনৈতিক আবহ, এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়াÑ সবকিছুই এখানে ধরা পড়েছে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে, যা পাঠককে একটি পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধির দিকে নিয়ে যায়।
সম্পাদক এই বিভিন্নমুখী লেখাগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে বিন্যস্ত করেছেন, যাতে একটি ধারাবাহিক বয়ান তৈরি হয় এবং পাঠক সহজেই সময়ের স্রোতে প্রবাহিত হতে পারেন। একই সঙ্গে, এই সংকলনটি গবেষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পাঠকের জন্য হয়ে উঠতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স, যেখানে তথ্যের পাশাপাশি রয়েছে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার।
ইতিহাসকে বুঝতে হলে শুধু ঘটনাই নয়, সেই ঘটনার প্রতিধ্বনি ও ব্যাখ্যাও জানা প্রয়োজন। এই গ্রন্থটি সেই প্রয়োজন পূরণের একটি আন্তরিক প্রয়াসÑ যেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ঘিরে একটি সময়ের জটিল বাস্তবতা উঠে এসেছে স্পষ্ট ও সংবেদনশীল ভঙ্গিতে।
ফরীদুল আলম- জন্ম, বেড়ে-ওঠা রাজধানী ঢাকা নগরীতে; যে শহর তাঁর পূর্বপুরুষদের প্রতিষ্ঠিত। এই শহরের পরতে পরতে অতীতের যে নির্যাস, যে সুরভি ছড়িয়ে রয়েছে- তার আঘ্রাণ নিয়ে তিনি নিয়ত নির্মাণ করে যান তাঁর পছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন আখ্যান।
পছন্দের বিষয় ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, স্থাপত্যকলা আর শিল্পকলার বিভিন্ন মাধ্যম। সংগীত- বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন ভাষার পুরনো সংগীত তাঁর জীবন-চলার পথের অন্যতম পাথেয়। কবিতার অনুরাগী পাঠক ও তাত্ত্বিক হলেও তিনি কবিতা-রচয়িতা তথা ‘কবি’ নন। প্রাবন্ধিক, সাহিত্য-সমালোচক এবং বানান-বিশেষজ্ঞ হিসেবেই তাঁর পরিচিতি চেনা-মহলে।
অনুবাদকর্ম, গ্রন্থ-সম্পাদনা, পিএইচডি ও এম.ফিল গবেষণাকর্মে সহায়তা প্রদান, শিক্ষকতা ইত্যাদি কর্মে নিয়োজিত রেখেছেন নিজেকে। ভ্রমণে অসম্ভব উৎসাহী হিসেবে পৃথিবীর অনেক দেশ সফরের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হয়েছেন।
জীবনসঙ্গিনী জাবিলা ইয়াসমিন তাঁর সকল কাজের অনুপ্রেরণাদাত্রী হিসেবে প্রায় সার্বক্ষণিক সহচরী।