Close
  • Look inside image 1
  • Look inside image 2
  • Look inside image 3
  • Look inside image 4
  • Look inside image 5
  • Look inside image 6
  • Look inside image 7
  • Look inside image 8
  • Look inside image 9
  • Look inside image 10
  • Look inside image 11
জান্নাত ও জাহান্নাম image

জান্নাত ও জাহান্নাম

মাওলানা মুহাম্মাদ ইসহাক খান

TK. 440 Total: TK. 277
You Saved TK.163

down-arrow

37

জান্নাত ও জাহান্নাম

জান্নাত ও জাহান্নাম

হেয়ার আফটার বা পরকাল বিষয়ক বই।

TK.277 TK. 440

অ্যাপে ১ম অর্ডারে ফ্রি শিপিং ৯৯৯+ টাকা এমাউন্টে

প্রোমোকোডঃ APP1ST

নেক্সট লেভেল গ্রোথ - নন ফিকশন image

পাঠকেরা একত্রে কিনে থাকেন

এই ই-বুক গুলোও দেখতে পারেন

বইটই

বইটির বিস্তারিত দেখুন

জাহান্নামের ভয় ও জান্নাতের আশার মাঝেই মুমিন জীবনের সন্তরণ


সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর। তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবায়ে কিরাম ও সকল মুসলিম উম্মাহর ওপর।

মৃত্যু জীবনের পরিসমাপ্তি নয় বরং মৃত্যু হলো একটি জীবনের এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় স্থানান্তরিত হওয়ার একটি সেতু মাত্র। কিন্তু আমাদের সমাজে আমরা মৃত্যু সম্পর্কে এই ভুল ধারণাটি পোষণ করে থাকি যে মৃত্যু মানেই হলো জীবনের পরিসমাপ্তি।


একজন মুমিন, মুসলিমের মূল আক্বীদা বা বিশ্বাসের সূচনাই হচ্ছে মহান আল্লাহ, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর ঈমান, পরকাল তথা জান্নাত জাহান্নাম ইত্যাদির ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস ইত্যাদির ওপর। সুতরাং আমরা সবাই জানি যে, আমাদের এই দুনিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনের পরে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে সীমাহীন জীবনের এক বিশাল জগত। যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। যেখানে আদি আছে অন্ত নেই।


একারণেই একজন মুসলিম যেমন মহান আল্লাহর আযাব তথা জাহান্নামকে ভয় করে, তেমনি সে মহান আল্লাহর রহমত এবং জান্নাতেরও প্রত্যাশা করে। জাহান্নামের ভয় ও জান্নাতের আশার মাঝেই হচ্ছে প্রকৃত ঈমানের বিচ্ছুরণ। যেমনটি পবিত্র কুরআনেও ইরশাদ হয়েছে। আল্লাহ বলেন,

﴿ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا ﴾

অর্থ: “...আর তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আযাবকে ভয় করে। নিশ্চয়ই তোমার রবের আযাব ভীতিকর।” (সূরা ইসরা, আয়াত ৫৭)


এ কারণে পবিত্র কুরআনের শুরুতে এবং কুরআন নাযিলের প্রথম থেকে এক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কেবল আমাদেরকে জান্নাত আর জাহান্নামের কথাই বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য অগণিতবার তিনি আমাদেরকে কখনো জাহান্নামের ভয়ংকর শাস্তির কথা বলেছেন, আবার তারপরেই জান্নাতের সুশোভিত নিয়ামতসমূহের সুসংবাদ দিয়েছেন। যখনি তিনি জাহান্নামের আগুনের উত্তপ্ততার কথা বর্ণনা করেছেন, পরক্ষণেই জান্নাতের সুশীতল ঝর্ণাধারা ও হাউজে কাউসারের সুপেয় ও অলৌকিক পানীয়ের কথাও আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। যেমন ইরশাদ হয়েছে,

﴿كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلا مَتَاعُ الْغُرُورِ﴾

অর্থ: “প্রতিটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সেই হবে প্রকৃত সফল। আর দুনিয়ার জীবন তো শুধুই ধোঁকার সামগ্রী।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)


কিন্তু বিতাড়িত শয়তান যে, আমাদের পিছনে আঠার মতো লেগে আছে! যে অহর্নিশ আমাদেরকে ধোঁকা ও ওয়াসওয়াসা দিয়েই চলছে যাতে আমরা কোন ভালো আমল করে জান্নাত লাভ করতে না পারি! এমনকি এক সময় আমাদের মৃত্যুর নির্ধারিত সময় এসে যাচ্ছে, পরিণামে আমাদের ঠিকানা হয়ে যাচ্ছে নিকৃষ্ট জাহান্নাম। তখন আর আমাদের কিছুই করার থাকছে না।

তাই তো পরম করুণাময়, দয়াময় আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদেরকে শয়তানের প্ররোচণা থেকে রক্ষা করে তাদের প্রকৃত ও উৎকৃষ্ট আবাসস্থলে প্রেরণের জন্য কুরআনে কারীমের অসংখ্য জায়গায় জান্নাত জাহান্নামের আলোচনা করেছেন। আর তিনি যেখানেই জান্নাতের আলোচনা করেছেন সাথে সাথে সেখানে জাহান্নামের আলোচনা করেছেন। জান্নাতের আলোচনা করে আমাদেরকে আশা দিয়ে নেক আমলের প্রতি উৎসাহ ও প্রেরণা যুগিয়েছেন। সাথে সাথে জাহান্নামের ভয় ঢুকিয়ে শয়তানের প্ররোচনা, অন্যায় ও গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকার ভয় তৈরী করেছেন। যাতে আমরা আমলের মাধ্যমে পরকালে আমাদের উৎকৃষ্ট আবাসস্থল সহজেই লাভ করতে পারি। ইরশাদ হচ্ছে,

﴿ وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا ﴾

অর্থ: “আর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তার জন্য হিদায়াত প্রকাশ পাওয়ার পর এবং মুমিনদের পথের বিপরীত পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে ফেরাব যেদিকে সে ফিরে এবং তাকে প্রবেশ করাব জাহান্নামে। আর আবাসস্থল হিসেবে তা খুবই নিকৃষ্ট।” (সূরা নিসা, আয়াত ১১৫)

এর কয়েক আয়াত পরেই তিনি জান্নাতের আলোচনা করেছেন।

﴿ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا وَعْدَ اللَّهِ حَقًّا وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلًا ﴾

অর্থ: “আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, অচিরেই তাদেরকে আমি প্রবেশ করাব এমন জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর কথায় আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী কে আছে?” (সূরা নিসা, আয়াত ১২২)


এমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসংখ্য হাদীসের মধ্যে জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনা এসেছে। নেক আমলের বদৌলতে আমরা জান্নাতের কী কী নেয়ামত লাভ করতে পারবো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য জান্নাতে কী কী নেয়ামত রেখেছেন। পক্ষান্তরে আমাদের বদ আমলের কারণে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামে কী কী শাস্তি রেখেছেন তা কুরআন ও হাদীসে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

এটা এজন্য করা হয়েছে, মুসলিমরা শুধু আযাব আর শাস্তির কথা শুনে শুনে একদিকে যেমন হতাশ না হয়ে যায়, তেমনি অপরদিকে কেবল শান্তি আর নিয়ামতের কথা শুনতে শুনতে তারা যেনো দুনিয়ার জীবনে অলস ও অকর্মন্য হয়েও না পড়ে। যেমন এক হাদীসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إن الله خلق الرحمة يوم خلقها مائة رحمة فأمسك عنده تسعا وتسعين رحمة وأرسل في خلقه كلهم رحمة واحدة فلو يعلم الكافر بكل الذي عند الله من الرحمة لم ييئس من الجنة ولو يعلم المؤمن بكل الذي عند الله من العذاب لم يأمن من النار.

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ যেদিন রাহমাত সৃষ্টি করলেন সেদিন তিনি একশত রহমত সৃষ্টি করলেন এবং তার নিরানব্বইটি রাহমাতই নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন এবং মাত্র একটি রাহমাত তার সৃষ্টির সবার মাঝে দিয়েছেন। সুতরাং যদি কাফিররা মহান আল্লাহর কাছে বিদ্যমান রাহমাতের এই ব্যাপকতা ও বিস্তৃতি সম্পর্কে জানতে পারতো তাহলে তারাও জান্নাতের ব্যাপারে নিরাশ হতো না। আর যদি মুমিনরা আল্লাহর কাছে বিদ্যমান সকল আযাব সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা লাভ করতো তাহলে (আযাব ও ভয়ংকর অবস্থা প্রত্যক্ষ করে) তারাও জাহান্নাম থেকে বেঁচে যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারতো না।” (সহীহ বুখারী, কিতাবুর রিক্বাক, আশা এবং ভয় পরিচ্ছেদ)


অর্থাৎ মহান আল্লাহর রাহমাত যেমন বিস্তৃত, তেমনি তার আযাবও সীমাহীন। তাই আমাদের যেমন আল্লাহর রাহমাত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না, তেমনি জাহান্নামের আযাব ও মহান আল্লাহর রাগের ব্যাপারেও সজাগ থাকতে হবে এবং তার ভয়ও করতে হবে। অপর এক হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,

عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم. دخل على شاب وهو في الموت فقال له كيف تجدك؟ فقال أرجو الله وأخاف ذنوبي، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم. لا يجتمعان في قلب عبد في هذا الموطن إلا أعطاه الله ما يرجو وآمنه مما يخاف.

অর্থ: “হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন মৃত্যুশয্যায় শায়িত এক ব্যক্তির কাছে গেলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এখন কেমন অনুভব করছো?

তখন সেই ব্যক্তি বললেন, আমি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মাগফেরাত পাওয়ার আশা করি আবার আমার গুনাহের কারণে ভয়ও অনুভব করছি। তখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই ভূমিতে মুমিন ব্যক্তির হৃদয়ে দু’টি বিষয় একত্র হতে পারে না, তবে আল্লাহ তাঁকে তাই দান করবেন সে যার আশা করে এবং তিনি তাকে সেই অবস্থা ও বিষয় থেকে রক্ষা করবেন এবং নিরাপত্তা দিবেন সে যার ভয় করে।” (তিরমিযী)


জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের ভয়, এই দু’টি বিষয়ের মাঝে ব্যালেন্স তথা সমান অনুপাতে দৃষ্টি ও মনোযোগ নিবদ্ধ করে চলার নামই বিচক্ষণতা। এর নামই ঈমান ও প্রকৃত মুমিনের পরিচয় এটিই।


আমাদের জীবন নামক এই ট্রেন, যা বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে চলছে এক চূড়ান্ত গন্তব্যের দিকে, আর তা হলো, জান্নাত অথবা জাহান্নাম। আর আমাদের প্রকৃত আবাসস্থল তো ছিলো জান্নাত। যা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। আমাদের আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টির পর সেখানেই রেখেছিলেন, কিন্তু বিতাড়িত শয়তানের ওয়াসওয়াসায় পড়ে আমরা অপরাধ করে বসি। আমাদের সেই অপরাধ বা ভুলের কারণেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে শাস্তিস্বরূপ এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ. فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ وَقُلْنَا اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ ﴾

অর্থ: “আর আমি বললাম, ‘হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং তা থেকে আহার করো স্বাচ্ছন্দ্যে, তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী তবে এই গাছটির নিকটবর্তী হয়ো না, তাহলে তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

অতঃপর শয়তান তাঁদেরকে জান্নাত থেকে স্খলিত করলো। অতঃপর তাঁরা যাতে ছিলো তা থেকে তাঁদেরকে বের করে দিলো, আর আমি বললাম, ‘তোমরা নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। আর তোমাদের জন্য যমীনে রয়েছে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবাস ও ভোগ-উপকরণ’।” (সূরা বাকারা, আয়াত ৩৫-৩৬)


এখন আমাদেরকে এখানে (নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত) কিছুদিন অবস্থান করতে হবে এবং সেই প্রকৃত বাসস্থান ফিরে পাওয়া ও সেখানে ফিরে যাওয়ার জন্য আমল করতে হবে। আর সেখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের জন্য দু’ধরণের আবাস্থল প্রস্তুত করে রেখেছেন। একটি হলো জান্নাত অপরটি হলো জাহান্নাম। নিশ্চয়ই জান্নাত সর্বোৎকৃষ্ট আবাসস্থল এবং জাহান্নাম নিকৃষ্ট। দুনিয়াতে আমরা যে ধরণের আমল করবো তার উপরই নির্ভর করছে আমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল জান্নাত হবে না জান্নাম হবে। এ বিষয়টি নিয়ে উম্মাহর পূর্বসূরী উলামায়ে কিরামগণও চিন্তিত থাকতেন। যেমন ইমাম আবূ ইবরাহীম ইসমাঈল ইবনে ইয়াহইয়া আল মুযনী রহ. বলেন, আমি ইমাম শাফেয়ী রহ. কে তাঁর মৃত্যু শয্যায় দেখতে গেলাম। তাঁর হালত জানার জন্য আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনি এখন কেমন বোধ করছেন?


তিনি বললেন যে, মনে হচ্ছে আমি আমার ভাইদেরকে ছেড়ে এই দুনিয়ার সংক্ষিপ্ত সফর সমাপ্ত করে বিদায় নিচ্ছি। মৃত্যুর পাত্র থেকে পান করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে চলে যাচ্ছি। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি জানি না যে, আমার সফর কি জান্নাতের দিকে হচ্ছে, না জাহান্নামের দিকে হচ্ছে। আমি কি জান্নাতের উপযুক্ত হয়েছি, না আমার বদ আমলের কারণে জাহান্নামই আমার আবাসস্থল হবে!

এরপর তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে, চোখের পানি ফেলতে ফেলতে এই কবিতাগুলো আবৃত্তি করলেন-

إليك إله الخلق أرفع رغبتي - وإن كنتُ ياذا المنِّ والجود مجرماً.

হে সৃষ্টিকর্তা! আপনার কাছেই আমি আমার একান্ত বাসনা তুলে ধরি।

এমনকি যদিও আমি একজন গুনাহগার ও অপরাধী হয়ে থাকি! -হে পরম দয়াশীলতা ও অসীম করুণার ধারক!

ولَّما قسا قلبي، وضاقت مذهبي- جَعَلْتُ الرَّجَا مِنِّي لِعَفْوِكَ سُلّمَا.

যখন আমার অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়, আর আমার চলার পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।

তখন আপনার মার্জনা ও ক্ষমার মাঝেই আমি আশার আলো দেখি।

فَمَا زِلْتَ ذَا عَفْوٍ عَنِ الذَّنْبِ لَمْ تَزَلْ- تَجُودُ وَتَعْفُو مِنَّة ً وَتَكَرُّمَا.

আপনিই একমাত্র সত্তা -যিনি গুনাহ ক্ষমা করে থাকেন।

আপনার পরম ক্ষমাশীলতা ও অসীম অনুগ্রহের গুণে আপনি অনুগ্রহ ও ক্ষমা করেন।


فإن تعفُ عني تعفُ عن متمردٍ - ظَلُومٍ غَشُومٍ لا يزالُ مأثما.

সুতরাং যদি আপনি বিচার দিবসে আমাকে ক্ষমা করে দেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি একজন পাপী ব্যক্তিকেই ক্ষমা করবেন।

-যে নিজের উপর যুলুম করেছে, এক বিদ্রোহী পাপী যে এখনো পাপ করে চলেছে।

وإن تنتقمْ مني فلستُ بآيسٍ - ولو أدخلوا نفسي بجُرْم جهنَّما.

আর যদি আপনি আমাকে শাস্তি দেবার সিদ্ধান্ত নেন, তবে আমি নিরাশ হবো না।

এমনকি যদিও তারা (ফেরেশতারা) আমার গুনাহের জন্য আমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করায়।

فَصِيحاً إِذَا مَا كَانَ فِي ذِكْرِ رَبِّهِ - وَفِي مَا سِواهُ فِي الْوَرَى كَانَ أَعْجَمَا.

(একজন ন্যায়পরায়ণ বান্দার উদাহরণ হলো-) যখন সে তাঁর রবের কথা বলে, তখন সে তাঁর (প্রশংসায়) বাকপটু হয়ে পড়ে।

আর যখন অন্যদের প্রসঙ্গ আসে তখন সে সেরূপ (বাকপটু) হয় না।

يَقُولُ حَبيبي أَنْتَ سُؤْلِي وَبُغْيَتِي - كفى بكَ للراجينَ سؤلاً ومغنما.

সে বলে, “হে আমার প্রিয় রব! আমি শুধু আপনারই সমীপে প্রার্থনা করি এবং আপনারই সন্তুষ্টি চাই।

নিজ মঙ্গল কামনা ও আকূল আকাঙ্খা করার জন্য আপনার সান্নিধ্য লাভের কামনা ও আকাঙ্খা করাই যথেষ্ট -যারা আশা করে তাদের জন্য।


ألستَ الذِّي غذيتني هديتني - وَلاَ زِلْتَ مَنَّاناً عَلَيَّ وَمُنْعِمَا.

আপনি কি সেই সত্তা নন, যিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন?

এবং আপনি আমার প্রতি সদয় হওয়া থেকে কখনো বিরত হন নি এবং সকল সুযোগ সুবিধাই আমাকে দিয়েছেন।

عَسَى مَنْ لَهُ الإِحْسَانُ يَغْفِرُ زَلَّتي - ويسترُ أوزاري وما قد تقدما.

অসীম ক্ষমাশীলতায় আপনি আমার ভুলগুলো ক্ষমা করবেন।

এবং আমার কৃত অপরাধ ও অন্যান্য যা কিছু (গুনাহ) আমার দ্বারা হয়েছে সেগুলো ঢেকে রাখবেন -এই আশা নিয়েই রয়েছি।


সুতরাং আমাদেরও সেই একই কর্তব্য যে আমরা মহান আল্লাহর জাহান্নামের ভয় করবো এবং তার মাগফেরাত ও রাহমাত লাভের আশাও রাখবো। আর এজন্য আমাদেরকে প্রতিনিয়ত জাহান্নাম ও জান্নাত সম্পর্কে কুরআন হাদীসের আলোকে আলোচনা করতে হবে। এ বিষয়টির চর্চা আমাদের সমাজে বাড়াতে হবে।


‘জান্নাত ও জাহান্নাম’ বইটি মূলত ঞযব ঐবৎবধভঃবৎ বা পরকাল সিরিজের তৃতীয় পর্ব। এই সিরীজে প্রথম পর্ব হচ্ছে ‘পরকালের পথে যাত্রা’। দ্বিতীয় পর্ব- ‘দাজ্জাল, মহাপ্রলয় ও বিচার দিবস’। এই তিন পর্বে পুরো সিরিজটি সম্পন্ন।

শায়খ আওলাকী রহ. কে মহান আল্লাহ এক অসাধারণ যোগ্যতা ও বাগ্মীতা দান করেছিলেন। ইংরেজি ভাষায় খুব সাবলীলভাবে তিনি যে আলোচনাগুলো উপস্থাপন করেছিলেন তা বাংলা ট্রান্সক্রিপ্টে বই আকারে আনতে গিয়ে খুবই বেগ পেতে হয়েছে। অনুবাদের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য আমরা রেইন ড্রপস এর কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহ তাদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন।


মূল আলোচনায় শায়খ আওলাকী রহ. আরব শায়খদের মতো যেভাবে অনর্গল উদ্ধৃতি ও কুরআন হাদীসের রেফারেন্স দিয়েছেন তা সংগ্রহ ও বইয়ে সংযুক্ত করতে গিয়ে ব্যয় হয়েছে এক দীর্ঘ সময়। আয়াত ও হাদীস সংযুক্ত করা ও সম্পাদনার সময় আমরা আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি বইটিকে সর্বাঙ্গীনভাবে তাঁর আলোচনার মতো সুন্দর করে তোলার জন্য, কিন্তু কতোটুকু সফল হয়েছি তা নির্ণয়ের ভার সম্মানিত পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের উপরই রইলো।


আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তিলাভ করে জান্নাতে যাওয়ার তাওফীক দিন। আমীন।




বিনীত

-মুহাম্মাদ ইসহাক খান

স্বত্বাধিকারী: খান প্রকাশনী

২৪/১০/২০১৪


Title জান্নাত ও জাহান্নাম
Author
Publisher
ISBN 9789849056652
Edition 1st Published 2026
Number of Pages 240
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা

Reviews and Ratings

sort icon

Product Q/A

Have a question regarding the product? Ask Us

Show more Question(s)

Customers Also Bought

loading

Similar Category Best Selling Books

prize book-reading point
Superstore
Up To 65% Off

Recently Viewed

cash

Cash on delivery

Pay cash at your doorstep

service

Delivery

All over Bangladesh

return

Happy return

7 days return facility

Video

0 Item(s)

Subtotal:

Customers Also Bought

Are you sure to remove this from bookshelf?

Write a Review

জান্নাত ও জাহান্নাম

মাওলানা মুহাম্মাদ ইসহাক খান

৳ 277 ৳440.0

Please rate this product