“মণি সিংহ বাংলাদেশের রাজনীতির সিংহ পুরুষ । সততা, সাহসিকতা, দেশপ্রেম, মানবিকবোধে তিনি এক উজ্জ্বল মানুষ। তাঁর জীবন সংগ্রাম ইতিহাসে গৌরবময় অধ্যায় । পরাধীনতার হাত থেকে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁর সংগ্রাম শুরু। কিশোর বয়সে তিনি যোগ দিয়েছিলেন বিপ্লবী অনুশীলন সমিতিতে। বিপ্লবী স্বাধীনতার গোপন কার্যকলাপের মধ্য দিয়েই তাঁর পরিচয় ঘটে মার্কসবাদের সাথে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা গ্রহণ করে কলকাতায় শ্রমিক আন্দোলনে যোগদান করেন।
মণি সিংহ ছিলেন উপমহাদেশের শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। কালক্রমে তিনি সমগ্র ভারতে কৃষক নেতা হিসেবে পরিগণিত হন। তিনি ছিলেন পূর্ব বাংলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টংক আন্দোলনের প্রধান নেতা । নিজ পরিবারের বিরুদ্ধেই তিনি এই আন্দোলন করেছিলেন। পাকিস্তান সরকার টংক প্রথা বিলোপ ও জমিদারি উচ্ছেদ আন্দোলনের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়। তার পরিবারের সমগ্র সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। তাকে জীবিত বা মৃত ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। তিনি
কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে গৌরবময়
নানকার ও তেভাগ আন্দোলনেও উল্লেখযোগ্য
ভূমিকা পালন করেন ।
মণি সিংহ মানবমুক্তির লক্ষ্য হিসেবে সমাজতন্ত্রকে স্থির করেছিলেন। পাকিস্তানকে প্রথম থেকেই প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত
করেছিলেন । পাকিস্তান শাসনকালের অধিকাংশ সময় তাঁকে আত্মগোপন বা কারান্তরালে থাকতে হয়েছে । তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা। মণি সিংহ কেবল আমাদের দেশের নয় তিনি ছিলেন বিশ্বব্যাপী মানবমুক্তির সংগ্রামের এক অগ্রনায়ক । এই জন্যই ইতিহাসে তিনি চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন।”
হালিম দাদ খান কিশােরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলের ইটনা থানার শিমুলবাঁক গ্রামে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস ডিগ্রি অর্জনের পর কলেজে শিক্ষকতার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের শুরু। পাঠ্যবিষয় হিসেবে অধ্যয়নের সাথে সাথে ছাত্রজীবনে তিনি জড়িত ছিলেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও। এখনও তিনি খোঁজ রাখেন সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির, ভাবেন রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে। বাংলাদেশের রাজনীতি ১৯৭২-১৯৭৫ তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ। পাঠক-সমাদৃত হলে ১৯৭৫পরবর্তীকাল নিয়েও কয়েকটি খণ্ড রচনার পরিকল্পনা তার রয়েছে।