রাষ্ট্রনায়কত্ব এমন একটি গুণ যা প্রতিটি রাজনীতিকের মধ্যে দেখা যায় না। আজকের দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত বহু রাজনীতিকের মধ্যে খুব কমজনই তাদের কাজের মাধ্যমে নিজেকে সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের প্রথম দিনগুলো ছিল কণ্টকাকীর্ণ। দারিদ্র্যের প্রকোপে বিধ্বস্ত, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও খরায় বিপর্যস্ত, অপুষ্টি, জনসংখ্যার বিস্ফোরণ, চরম বেকারত্ব, অত্যন্ত নিম্ন শিক্ষার হার এবং পূর্ববর্তী শাসনের অব্যবস্থাপনায় বিপর্যস্ত একটি নবগঠিত রাষ্ট্রের হাল ধরা ছিল প্রেসিডেন্ট জিয়ার জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। কিন্তু তিনি তার গতিশীল নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলীর মাধ্যমে দেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দ্রুত নিজের উপস্থিতির সার্থকতা প্রমাণ করতে সক্ষম হন। হতাশ এবং দিশাহীন সাধারণ মানুষের মধ্যে তিনি এক নতুন আলো ও আশার বার্তা নিয়ে আসেন। তিনি স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হন এবং তার ১৯ দফা কর্মসূচি উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
একজন পেশাদার সেনা কর্মকর্তার চেয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও চিন্তাশীল রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তিনি জাতীয় সমস্যাগুলোর মূলে পৌঁছে সেগুলোর স্থায়ী সমাধানের উপায় খুঁজে বের করার অসাধারণ ক্ষমতা রাখতেন। দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে, ধর্ম, বর্ণ এবং বিশ্বাস নির্বিশেষে, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত জ্ঞান তিনি কাজে লাগিয়ে ছিলেন অসাধারণ দক্ষতার সাথে।
জনসংখ্যা বিস্ফোরণকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, যুবসমাজ ও নারীর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি পাল্টে দেন সমাধানের দৃষ্টিভঙ্গি। তার খাল খনন কর্মসূচি, মৎস্য, পোল্ট্রি এবং পশুসম্পদ উন্নয়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান কৃষিক্ষেত্রে উন্মোচিত করে নতুন দিগন্ত।
এই বইটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। জিয়াউর রহমান চেনার ক্ষেত্রে খুলে দেবে নতুন জানালা।
Abdul Hye Sikder- জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৫৭ ৷৷ ছাট গোপালপুর গ্রামে। পিতা কৃষিবিদ ওয়াজেদ আলী শিকদার। জননী হালিমা খাতুন। মওলানা ভাসানীর দীর্ঘ ছায়ায় আশৈশব বেড়ে ওঠা তার । পিতার সাহায্যে তাঁর প্রথম লেখা ’নদী’। পড়ালেখার বেশিরভাগ কেটেছে রংপুরের কারমাইকেল কলেজে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়েছিলেন স্নাতক সম্মান।তারপর নিয়েছেন স্নাতকোত্তর। পুরো পরিবার অংশ নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে । প্রিয় কবি মনসুর আহমদ । স্বপ্ন ছিল চে গুয়েভারা হওয়ার। লেখালেখির শুরু স্কুলজীবন থেকেই। বিকাশ আশির দশকে। পেশা জীবন শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে, এখনও আছেন সেই পেশাতেই। সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) দুই দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি তিনি । মাঝে নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন নজরুল ইন্সটিটিউট-এ। নজরুলের ওপর নির্মাণ করেছেন তিনটি তথ্যচিত্ৰ । স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নিয়মিত সাহিত্য মাসিক "এখন"-এর তিনি মূল স্থপতি। কবিতা, শিশুসাহিত্য, জীবনী, গল্প, গবেষণা, ভ্ৰমণ, চলচ্চিত্র-সব মিলিয়ে তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা এখন শতাধিক । বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিকড় সন্ধানী ম্যাগাজিন ‘কথামালার” পরিকল্পক, উপস্থাপক। কবিতার জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অন্যান্য পুরস্কার। স্ত্রী আবিদা শিকদার, পুত্র পরম ও কন্যা প্রকৃতিকে নিয়ে রাজধানীর শহরতলীতে তার সংসার।