সময়ের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে মানুষের সামনে দু’টি পথ খোলা থাকে--একটি নীরবতার, অন্যটি সত্য উচ্চারণের। ইতিহাস সাক্ষী, যারা নীরবতার আশ্রয়ে নিরাপত্তা খুঁজেছে তারা হয়তো সাময়িকভাবে ঝড় এড়াতে পেরেছে, কিন্তু সময়ের আদালতে তাদের সেই নীরবতাই একদিন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
আখতারুজ্জামান সজলের অবিন্যস্ত ছায়া সেই প্রশ্নগুলোরই সাহসী উচ্চারণ। এই গ্রন্থ কোনো নিছক সাহিত্যকর্ম নয়; এটি সময়ের আয়না, যেখানে আমরা সমাজ, রাজনীতি, নৈতিকতা ও মানবিকতার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। এখানে শব্দগুলো শুধু কবিতার ছন্দে সাজানো নয়--শব্দগুলো কখনো প্রতিবাদ, কখনো আত্মসমালোচনা, কখনো-বা ভবিষ্যতের জন্য এক সতর্কবার্তা।
এই গ্রন্থে সমাজের সেই অদৃশ্য অন্ধকারকে সামনে এনেছেন, যা অনেক সময় আমরা দেখেও দেখতে চাই না। ইতিহাস বিকৃত হলে, ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হলে এবং মানবিকতা সংকুচিত হলে একটি জাতির আত্মা ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। সেই ক্ষয়ের বিরুদ্ধের প্রতিবাদই এই বইয়ের মূল শক্তি।
‘অবিন্যস্ত ছায়া’ শুধু পাঠকের অনুভূতিকে স্পর্শ করবে না; এটি তাকে ভাবতে বাধ্য করবেÑনিজেকে নিয়ে, সমাজকে নিয়ে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন পৃথিবী দরকার।
আখতারুজ্জামান সজলের লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলোÑতাঁর স্পষ্ট চিন্তা, বাস্তবতার প্রতি গভীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজ-রাজনীতির প্রতি দায়বদ্ধতা। তিনি সময় ও সমাজকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণকারী এক মননশীল চিন্তক। তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সামাজিক বাস্তবতা এবং জাতীয় চেতনার এক স্বতন্ত্র সমন্বয় লক্ষ করা যায়। মানুষের অন্তর্লোককে নিজের ভাবনা ও অনুভূতির আলোকে তুলে ধরেছেন।
যদি এই বই পাঠকের মনে এক মুহূর্তের জন্যও প্রশ্ন জাগায়, বিবেককে নাড়া দেয়, কিংবা নীরবতার পরিবর্তে সত্যের পাশে দাঁড়ানোর সাহস জাগায় তবেই এই গ্রন্থের উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে। --আবদুল হাই শিকদার, বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।