ইসলামী শরীআতের বিধিবিধান ও মাসআলা-মাসাইল জানার জন্য ‘ফিকহ’ বা ইসলামি আইনশাস্ত্রের ভূমিকা অপরিসীম। তবে ফিকহের আলোচনা যদি অন্ধ তাকলীদ বা দুর্বল দলীলের ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে তা মানুষকে সুন্নাহ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। এই প্রয়োজন মেটাতেই রচিত হয়েছে ‘সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ’। বইটিতে পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের অকাট্য দলীল এবং সমকালীন প্রথম সারির তিন মহান স্কলার (ইবনু বায, আলবানী ও ইবনু উসাইমীন)-এর তাহক্বীকের আলোকে ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলোর সমাধান দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যেক মুসলিমের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন ফরয। তাই মুসলিম হিসেবে ইসলামের বিষয়গুলো জানা অপরিহার্য। আর মুসলিমদের জ্ঞানের ভিত্তি আল্লাহর অহী। অহী হলো কুরআন ও হাদীস। অহীকে বুঝা ও এই তথ্যকে সমৃদ্ধভাবে জীবনে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন শিক্ষকের। ইসলামের প্রেক্ষাপটে ফিকহ সেই শিক্ষক। আর সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ গ্রন্থটি অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্টমণ্ডিত। নিম্নে কিছু উপস্থাপন করা হলো:
১. কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে মাসআলাসমূহ উপস্থাপন করা হয়েছে।
২. মাসআলাসমূহে উল্লিখিত প্রতিটি হাদীসের তাখরীজ অর্থাৎ হাদীসটির সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে। এবং সবচেয়ে পরিপূর্ণতা হচ্ছে হাদীসগুলোর তাহক্বীক্ব যুক্ত করা হয়েছে।
৩. কুরআন ও সুন্নাহকে বুঝতে হয় সালাফদের বুঝের আলোকে। আল্লাহর রসূল ﷺ-এর পর সর্বশ্রেষ্ঠ তিন যুগের অর্থাৎ সাহাবী, তাবিঈ, তাবে-তাবিঈ এবং মুজতাহিদ ইমামগনের বুঝকে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো তাদের মতামতের সূত্রও উল্লেখ করা হয়েছে।
৪. অনন্য এক বৈশিষ্ট্য হলো, কোনো মাসআলায় সালাফদের মধ্যে মতামতের ভিন্নতা হলে তার রদ্দ অর্থাৎ দলীলভিত্তিক প্রত্যুত্তর যুক্ত করা হয়েছে এবং সবচেয়ে বিশুদ্ধ মতকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৫. লেখক বইয়ের শুরুতে ফিকহের সূচনা, ফকীহদের মতানৈক্য, হাদীস ও ফিকহের সংযুক্তি, মুজতাহিদ ও মুকাল্লিদের ধারণা ইত্যাদি বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এতে একজন সাধারণ মুসলিম ফিকহের প্রয়োজনীয়তা, আবশ্যকতা, মতানৈক্যর কারণ ও সমাধান ইত্যাদি বিষয়ে সঠিক বুঝে পৌঁছতে সক্ষম হবেন।
৬. ফিকহের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরিভাষাকে সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় সূত্র উল্লেখসহ যুক্ত করা হয়েছে। উসুলুল ফিকহ ও কাওয়ায়িদুল ফিকহের মূলনীতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে, ফলে ফিকহের পাঠকবৃন্দ প্রয়োজনীয় মাসআলা সহজে আয়ত্ত করতে সক্ষম হবেন।
৭. বিভিন্ন মাসআলায় আলিমগণের ইজমা(ঐকমত্য) সূত্রসহ উল্লেখ করা হয়েছে।
৮. বিভিন্ন মাসআলায় আলিমগণের মতানৈক্যের উল্লেখপূর্বক অগ্রাধিকার মতকে দলীলের আলোকে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একজন পাঠক দ্বিধা ব্যতীতই প্রতিটি মাসআলা গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন।
পরিশেষে, ইসলাম হলো আল্লাহ যা বলেছেন, নাবী ﷺ যা বলেছেন, তা মানা। এই মানার জন্যই বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। এটাই ফিকহ। অসাধারণ ফিকহের একটি গ্রন্থ সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ তাই আপনার পাঠের তালিকায় থাকা অপরিহার্য।