মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তার কর্ম, আদর্শ ও অবদান সময়ের সীমা অতিক্রম করে যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে। সমাজের ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ জন্ম নেন, যাঁদের জীবন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং একটি জনপদের জাগরণ, একটি প্রজন্মের শিক্ষালাভ এবং একটি সমাজের নৈতিক বিকাশের ইতিহাস হয়ে ওঠে। মরহুম আব্দুল কাদের ভূঁইয়া, যিনি সর্বজনবিদিত ছিলেন “বাদশাহ মাস্টার” নামে, ছিলেন তেমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব।
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার অন্তর্গত (বর্তমানে তিতাস উপজেলা) ঐতিহ্যবাহী শাহাবৃদ্ধি গ্রামে ১৯২০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এমন এক বংশের উত্তরসূরি ছিলেন, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দানশীলতা, ধর্মীয় অনুরাগ, সামাজিক নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণের দীর্ঘ ইতিহাস। তাঁর পিতামহ মরহুম করিম বক্স ভূঁইয়া ছিলেন এলাকার একজন খ্যাতিমান দানবীর ও সমাজনেতা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ, পাকা ঘাটওয়ালা পুকুর এবং ওয়াকফকৃত সম্পত্তি আজও সেই গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে।
কিন্তু আব্দুল কাদের ভূঁইয়ার প্রকৃত পরিচয় তাঁর বংশমর্যাদায় নয়; তাঁর প্রকৃত পরিচয় নিহিত রয়েছে তাঁর কর্মে, চরিত্রে এবং মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসায়। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক, যিনি শিক্ষাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, বরং একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিলÑ শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে, চরিত্রবান করে এবং সমাজকে উন্নতির পথে পরিচালিত করে। তাই তিনি শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি; তিনি গ্রামের পথে পথে ঘুরে শিশুদের বিদ্যালয়ে নিয়ে গেছেন, অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ ১৯৮০ সালের এপ্রিলের ১১ তারিখে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শাহাবৃদ্ধি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৯০ সালে চট্রগ্রামের নিউঝাউতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এসসি এবং ১৯৯৮ সালে অধ্যাপক আব্দুল মজিদ কলেজ থেকে স্টার মার্কসহ এইচ এস সি পাস করেন। ২০০২ সালে বাউবি থেকে বি.এজি.এড এবং ২০২২ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস করেন। ২০০৭ সালে মালয়শিয়া গমন করেন। মালয়শিয়ার স্মৃতিচারণমুলক তাঁর বিখ্যাত বই ‘জীবনযুদ্ধে মালয়েশিয়ে ভ্রমণ’। ২০১০ সালে বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলি আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃষি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে। ২০১৫ সালে বিট্রিশ কাউন্সিলের কানেক্টটিং ক্লাশরোম প্রজেক্টের আওতায় যুক্তরাজ্যের লিংকন ইউনিভার্সিটিসহ একাধিক বিদ্যালয় পরিদর্শণ করে। ২০১৭ সালে ভারত সফর করেন। বিলেতের স্মৃতিচারণমুলক তাঁর বিখ্যাত বই ‘শ্রেণিকক্ষের খোঁজে বিলেত ভ্রমণ’। তিনি ‘শিক্ষক’,শিক্ষককতার করোনাকালীন দিনলিপি, শিক্ষকতার ঝুড়ি, শিক্ষকতার তিলক, জুলাই আগস্ট ’২৪,জীবন পুতুল খেলার গল্প, রূপবৈচিত্র বাংলাদেশ, কৃষি কবিতা, শ্রোতের মাঝে সাগর প্রভৃতি বইয়ের লেখক। সময় ও সুযোগ পেলে আরো বই প্রকাশ হবে।