আখতারুজ্জামান সজল তাঁর স্বতন্ত্র কাব্যভাষা, সামাজিক সংবেদনশীরতা এবং নৈতিক প্রশ্নবোধের মধ্যে দিয়ে সমকালকে গভীরভাবে অনুধাবন করেছেন। ‘লজ্জার ানাথ সময়’ সেই অনুধারবনেরই শিল্পীত প্রকাশ। এটি কেবল একটি কবিতাগ্রন্থ নয; এটি আমাদের সময়ের নৈ তিক ক্ষয়, সামাজিক দ্বিচারিতা, বিবেকের নীরবতা এবং মানুষের অন্তর্গত লজ্জাবোধের এক গভীর দলিল। এই গ্রনে্থুর প্রতিটি কবিতা যেন সকালীন সমাজের আয়নায় ধরা পড়া একেকটি ক্ষতচিহ্ন--যেখানে সত্য বারবার অবহেলিত, বিবেক বারবার নির্বাসিত, আর লজ্জা ক্রমশ অনাথ পড়ে পড়ে। কবি এই গ্রন্থে ব্যক্তিগত অনুভূতির গণ্ডি অতিক্রম করে সার্বিক বাস্তবতার দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। ক্ষমতার অন্ধকার, মিথ্যার উৎসব, ন্যায়ের অবক্ষয়, বিবেকের শূন্যঘরÑএসব বিষয় কবিতাগুলোতে শুধু ভাষার অলঙকার হয়ে আসেনি, বরং এগুলো হয়ে উঠেছে সময়ের নির্মম সাক্ষ্য। যা কবিতার সুর ও ছন্দকে আরও প্রতিধ্বনিময় করে তোল্ েএই কাব্যগন্থের প্রতিটি কবিতা যেন পাঠকের অন্তরে প্রশ্নের জন্ম দেয়--আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, কোন সত্যের পাশে আছি, আর কোন নীরবতার ভেতরে নিজেদেরকে হারিয়ে ফেলছি? সব মিলিয়ে বইটি এক ধরনের প্রতিবাদী কাব্যভাষা নির্মাণ করেছেÑ যা সামাজিক বাস্তবতার সরাসরি উচ্চারণ। এই গ্রন্থ পাঠকের মনে নতুন করে প্রশ্ন তুলবেÑভাবতে বাধ্য করবে, অন্ধকারের ভেতর থেকেও আলোকে খুঁজে ফেরার সাহস পাবে। সেই সাসই এই বইকে শুধ প্রতিবাদের বই হিসেবে নিয়, জাগরণের বইতেও পরিণত করেছে। এই কাব্যগ্রন্থের প্রতিািট কবিতায়Ñশব্দ, ছন্দ, রূপক এবং ভাবধারা পাঠককে চিন্তাশীল ও সংবেদনশীর করে তুলবে; নতুন আত্মজিজ্ঞাসা এবং নৈতিক সাহসের জন্ম দেবে।
--আবদুল হাই শিকদার, বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিকবিশ্লেষক