স্বাধীনতার জন্য মানুষের তৃষ্ণা অনন্ত। সেই তৃষ্ণাই একাত্তরে বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল দীর্ঘদিনের পাকিস্তানের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে, অকাতরে প্রাণ দিতে। একাত্তরের সেই লড়াই সংগ্রামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী মোবাশ্বেরা খানম বুশরা। তখন তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। _তাঁদের বাড়িটি ছিল রাজারবাগ পুলিশলাইন সংলগ্ন। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও পুলিশলাইন ছিল পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিশেষ লক্ষ্য । কামান, মর্টার ও মেশিনগানের মতো যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে তারা আক্রমণ করেছিল সেই পুলিশ বাহিনীকে, যাঁদের হাতে ছিল কেবল মাত্র থ্রি নট থ্রি রাইফেল। কিন্তু সামান্য এই অস্ত্র নিয়েই সেই রাতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সেটিই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ। পুলিশদের অসহায় পরিবারগুলো সে রাতে আশ্রয় নিয়েছিল আশেপাশের এলাকায়। বীভৎস এই ঘটনার অভিজ্ঞতা মোবাশ্বেরা খানম লিখে রেখেছিলেন তাঁর ডায়েরিতে। সেই ডায়েরিকে কেন্দ্র করেই বইটি রচিত।
ঘটনার আকস্মিকতায় বিহ্বল নবীন প্রাণের প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ নিয়ে এই বইটি হয়ে উঠেছে একটি সময়ের দলিল, নিছক একটি স্মৃতিকথা নয় । এখানে বাঙালি জাতির প্রাণের আকুতির সাথে তাঁদের শৌর্যবীর্য, সাহসিকতা ও সংবেদনশীলতার অপূর্ব প্রকাশ ঘটেছে। লেখক তাঁর অন্তর্গত তাগিদ থেকে লিখেছিলেন ডায়েরি। ডায়েরির পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় সেই অলৌকিক অভিজ্ঞতা অপূর্ব আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে আছে। সেই সাথে মিশেছে তাঁর পরবর্তী সময়ের নবতর বোধ। দেশের সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ, তাঁদের অশ্রু ও রক্তজলে ভেজা দিনের গৌরব গাঁথার সাথে একাকার হয়ে আছে বর্তমানের ভয়ত্রস্ত মনের উদ্বেগ ও হাহাকার । -দিলওয়ার হোসেন ।
মােবাশ্বেরা খানম-এর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, বেড়ে উঠা ঢাকায়। বাবা মােহাম্মদ মােস্তফা আলী ‘কাশতকার' ছদ্ম নামে জনপ্রিয় ছিলেন কৃষিবিষয়ক লেখালেখির জন্যে। মা মােহসেনা খানম আগ্রহী ছিলেন চিত্রাংকনে।। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন। অনেক টেলিভিশন নাটকের নাট্যরূপ দিয়েছেন যেগুলাে প্রচারিত হয়েছে, বিভিন্ন চ্যানেলে। রবীন্দ্রনাথের বেশ কিছু ছােটগল্পের নাট্যরূপ দিয়েছেন। মৌলিক নাটকও লিখেছেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক ও ডীন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে অবসর জীবন যাপন করছেন। জীবনসাথী : বরেণ্য চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটক নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুল (প্রয়াত)। তাদের দুই কন্যা ঐশী আনাম ও অমৃতা আনাম।