অনেক সময় দারুণ একটি প্লট বা চমৎকার কোনো চরিত্র থাকার পরও গল্পটি কেন যেন ঠিক জমে ওঠে না| পাঠক গল্পের সাথে একাত্ম হতে পারেন না| কয়েক পাতা পড়েই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন| কেন এমন হয়? কারণ, লেখক হয়তো গল্পটি কেবল দূর থেকে 'বলে' যাচ্ছেন, দৃশ্যগুলোকে পাঠকের চোখের সামনে জীবন্ত করে ‘দেখাতে’ পারছেন না|
বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী এবং জাদুকরী কৌশল হলো ‘Show, Don't Tell’(দেখাও, বলো না)| কিন্তু কীভাবে একটি সাধারণ বাক্যকে শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্যে রূপান্তর করতে হয়? কীভাবে সংলাপের আড়ালে লুকিয়ে রাখতে হয় চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন? কীভাবে দীর্ঘ বর্ণনার একঘেয়েমি এড়িয়ে পাঠকের স্নায়ুতে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে হয়?
কথাসাহিত্যিক কয়েস সামী তাঁর ‘শো, ডোন্ট টেল’ বইটিতে এই প্রশ্নগুলোরই উত্তর দিয়েছেন একেবারে হাতে-কলমে| ধ্রুপদী বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী সব উপন্যাসের আবহে উদাহরণ, ষোলটি সুনির্দিষ্ট অধ্যায়ের মাধ্যমে তিনি ভেঙে ভেঙে দেখিয়েছেন চরিত্র নির্মাণ, পরিবেশ বর্ণনা, ব্যাকস্টোরি পরিচালনা এবং আবেগ ফুটিয়ে তোলার সকল গোপন সূত্র| বইটিতে দেখানো হয়েছে কোথায় দেখানোর মাধ্যমে গল্পের গভীরতা বাড়াতে হয়, আর কোথায় বলা’র মাধ্যমে গল্পের গতি ধরে রাখতে হয়|
আপনি যদি একজন নবীন লেখক হন, কিংবা নিজের লেখাকে নিয়ে যেতে চান এক পেশাদার ও ধ্রুপদী উচ্চতায়— তবে এই বইটি আপনার রাইটিং ডেস্কে রাখার মতো একটি অবশ্য-পাঠ্য গাইড|
কয়েস সামী। ছেলেবেলা থেকেই বইয়ের সাথে তার নিবিড় বন্ধুত্ব। সাহিত্যকে ভালোবেসে পড়েছেন সিলেটের এমসি কলেজের ইংরেজিতে। পড়তে পড়তে লেখালেখিতে ঝুঁকে পড়েন একসময়। আনন্দ খুঁজে পান গল্প বলায়। সহজ সরল ভাষায় গল্প বলাতেই পছন্দ করেন বেশি। তার লেখা লাকি থার্টিন গল্পগ্রন্থটি দেশ পান্ডুলিপি পুরস্কার অর্জন করে নেয় ২০১৯ সালে। অন্যান্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে- ঝরিছে নয়নবারি, পেনসিল ভূত, মোটুপাতলুর বন্ধু সাফওয়ান। পেশায় ব্যাংকার হওয়ায় লেখালেখির জন্য সময় খুঁজে বের করা কষ্টকর হয়ে পড়ে অনেক সময়। তবু তিনি সময় বের করে নেন- নেশার টানে, ভালোবাসার টানে।