কবিতা পড়া হয় না কতদিন। কতদিন পরিষ্কার করা হয় না আগাছা, পুকুরপাড়ের। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সময় জুটে না। নাগরিক জীবিকার তাগিদে ছেড়েছি কৃষিকাজ। মাটির গন্ধ পাই না। হাঁটি না ঘাস মাড়িয়ে খালি পায়। সাইকেল চালিয়ে কোথাও যাই না বহুদিন।
তবু প্রতিমাসে নবধ্বনি ছাপতে হয়, চেষ্টা করি। কেন ছাপতে হয়? কেন অযথা সময় নষ্ট? পয়সা মেলে? নাম-যশ-খ্যাতি পাওয়া যায়? নাহ! তেমন কোনো প্রাপ্তি নেই। যে সময় নবধ্বনির পেছনে ব্যয় করি, সেই সময় নিজের জন্য দিলে তবু দু-চারটে পয়সা মেলে। নবধ্বনি তো মুফতে করি। সম্পাদকদের কারো জন্য কোনো মাসোহারা বরাদ্দ নেই। একটা মাত্র বিজ্ঞাপন ছাড়া আর কোনো আয়ও নেই। লোকজনের কাছে বিজ্ঞাপন চাইতেও শরম লাগে। তাই আরেকজন লোক যে নেব, সেই পয়সা আসবে কোত্থেকে, সেটা ভেবে আর কিছু ভাবতে ইচ্ছে করে না।
প্রতি মাসের কয়েকটা দিন, অনেকগুলো কর্মঘণ্টা ব্যয় করে দেই। নিজের কর্পোরেট চাকরিতে ৯ ঘণ্টা সময় দিয়ে শরীর আর কথা শুনতে চায় না। তবু শরীরের হাতে পায়ে ধরে তাকে পিসির সামনে নিয়ে বসাই। শ্রান্ত শরীর নিয়ে কিবোর্ড-মাউস নিয়ে খুট খুট করতে থাকি অনেক রাত অব্দি।
নবধ্বনির আগে-পরে প্রকাশিত তার সমমনা প্রায় সকল ম্যাগাজিনই বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা বন্ধ করতে পারিনি। কেন পারলাম না? হয়তো সঠিক তরিকায় 'না' বলতে শিখি নাই এখনও। অথবা...
অথবা আমরা একাকী নিঃসঙ্গ এক নিবুনিবু প্রদীপ হয়ে জ্বলতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। শেষ লাইটহাউজ। যে নবীন নাবিকেরা লিখতে শিখছে, বলতে শিখছে, নতুন কিছু সৃষ্টি করার প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে, আমরা তাদের সামনে আখেরি লাইটহাউজ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকব। পথ দেখাব, যতক্ষণ না ভেঙে পড়ছি আগাগোড়া। আগামী প্রজন্ম অন্তত জানুক, কেউ একজন দাঁড়িয়েছিল প্রবল ঝড় আর ঝঞ্ঝা উপেক্ষা করেও।
ভারতীয় সাংবাদিক রাবিশ কুমারের বিখ্যাত উক্তিটা মনে পড়ল:
Not all battles are fought for victory. Some are fought simply to tell the world that someone was there on the battlefield.
“সব যুদ্ধ জয়ের জন্য লড়া হয় না। কিছু যুদ্ধ কেবল পৃথিবীকে এটা জানানোর জন্য লড়তে হয় যে, যুদ্ধক্ষেত্রে কেউ একজন শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছিল।”