'কাব্য ছন্দে দশ' কাব্যগ্রন্থটি মানুষের জীবনের চিরন্তন আবেগ, অপূর্ণতার হাহাকার, সম্পর্কের গভীর টানাপোড়েন এবং রূঢ় বাস্তবতার এক অনন্য দলিল। এখানে স্থান পাওয়া কবিদের লেখনীতে মানুষের হৃদয়ের না-বলা বেদনা ও একাকীত্বের রূপটি এমন মর্মস্পর্শীভাবে ফুটে উঠেছে, যা যেকোনো সংবেদনশীল পাঠকের মনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়ে যায়।
গ্রন্থের শুরুতেই এক অপূর্ণ প্রেমের আকুল দীর্ঘশ্বাস পাঠককে চেনা আবেগের মুখোমুখি দাঁড় করায়। প্রিয় মানুষের হাত ধরে নিস্তব্ধ রাত কাটানো, শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটা কিংবা একসাথে হারিয়ে যাওয়ার মতো সহজ স্বপ্নগুলো যখন সময়ের নির্মম ব্যবধানে অমাবস্যার অন্ধকারে হারিয়ে যায়, তখন খাঁটি ভালোবাসার অস্তিত্ব তীব্র হাহাকারের মধ্য দিয়ে পরাজয় বরণ করে। প্রেমের এই না-পাওয়ার বেদনার পাশাপাশি গ্রন্থটিতে ফুটে উঠেছে এক জন্মদাত্রী মায়ের বুকফাঁটা আর্তনাদ। পরম মমতায় সন্তানকে আগলে রেখেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যে মায়ের ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম, তাঁর সেই একাকীত্বের কান্না এবং সন্তানের প্রতি গভীর অভিমান প্রতিটি মানুষের বিবেককে ভীষণভাবে তাড়িত করে।
এই জাগতিক দুঃখ-বেদনার সমান্তরালে অন্য এক কবিমন নিজেকে এক নিভৃতচারী পথিক হিসেবে উপস্থাপন করে এক অনিশ্চিত ও অনাদি পথের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। কোনো পার্থিব প্রেম বা বন্ধন যাকে ধরে রাখতে পারে না, এক অপূর্ব বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় সমস্ত ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির মাঝে বিলীন হওয়াই যেন তার এই জাগতিক যাত্রার পরম পরিণতি। একই সাথে, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সম্পর্কের এক চরম মনস্তাত্ত্বিক সত্যও এখানে উন্মোচিত হয়েছে। সামান্য অহংকার, দ্বিধা আর জেদের কারণে কীভাবে সুন্দর সুন্দর সম্পর্কগুলো চোখের সামনে অতল গহ্বরে তলিয়ে যায় এবং মানুষ চাতকের মতো চেয়ে থেকেও এক কদম এগিয়ে যেতে পারে না, তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।