জীবনের কিছু গল্প কখনো পূর্ণতা পায় না, তবুও সেগুলো মানুষের হৃদয়ের গভীরে চিরকাল বেঁচে থাকে। “এক টাকার কয়েন” তেমনই এক গল্প- একাকিত্ব, বিশ্বাস, ভালোবাসা আর হারিয়ে ফেলার বেদনায় গড়া এক নিঃশব্দ জীবনকথা।
মানুষ যখন কাউকে নিজের সমস্ত বিশ্বাস দিয়ে ভালোবাসে, তখন সে কেবল একজন মানুষকে নয়, নিজের পৃথিবীকেও তার হাতে তুলে দেয়। কিন্তু সব বিশ্বাসের শেষ প্রান্তে সুখ অপেক্ষা করে না। কিছু সম্পর্ক মানুষকে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়, আবার কিছু সম্পর্ক নিঃশেষ করে দেয় ভিতরের সমস্ত আলো। এই গল্পের সামিরা তেমনই এক মেয়ে, যে অল্প বয়সেই বুঝে গেছে- সবাই আপন হয় না, আর ভালোবাসা মানেই সবসময় প্রাপ্তি নয়।
চারপাশে অসংখ্য মানুষ থাকলেও, মনের কথা বোঝার মতো একজন মানুষ না থাকলে পৃথিবীটাকে ভীষণ শূন্য মনে হয়। তখন মানুষ ধীরে ধীরে একাকিত্বের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নেয়। সামিরাও করেছে। তার জীবনে ছিল কিছু স্বপ্ন, কিছু বিশ্বাস, আর একজন মানুষকে ঘিরে গড়ে ওঠা অদ্ভুত ভালোবাসা। কিন্তু সময়ের নিষ্ঠুরতায় সে হারিয়েছে প্রিয় মানুষ, হারিয়েছে নিজের রঙিন পৃথিবীও। শেষ পর্যন্ত তার কাছে রয়ে গেছে কিছু স্মৃতি আর প্রিয় মানুষের দেওয়া একটি “এক টাকার কয়েন”।
একটি ক্ষুদ্র কয়েন কি সত্যিই কারও জীবনের একমাত্র সঙ্গী হতে পারে? হয়তো পারে না। তবুও কিছু স্মৃতি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, কাঁদায়, আবার নিঃশব্দে শক্তিও দেয়। এই গল্পে যেমন আছে না পাওয়া ভালোবাসার দীর্ঘশ্বাস, তেমনি আছে এক বেকার পুরুষের ভাঙা স্বপ্ন আর একটি মেয়ের ধীরে ধীরে নিঃসঙ্গ হয়ে যাওয়ার কাহিনী।
এটি কোনো সাদামাটা প্রেমের গল্প নয়। এটি জীবন্ত কিছু লাশের গল্প—যারা বাইরে থেকে বেঁচে থাকে, অথচ ভেতরে ভেতরে প্রতিদিন একটু একটু করে মরে যায়।
নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই তরুণ লেখিকা (জন্ম: ১৩ আগস্ট ২০০৮)। বর্তমানে তিনি শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে ইন্টারমিডিয়েটে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি তার গভীর আগ্রহ, যা তার মানসিক শান্তির অন্যতম উৎস। নিজের অনুভূতি ও ভাবনা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেই তিনি লেখেন। তার বিশ্বাস, ব্যক্তিগত অনুভব থেকে লেখা কোনো লেখা যদি অন্যের উপকারে আসে, সেটাই তার সার্থকতা। “এক টাকা কমে” তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ, যা তার সৃজনশীল যাত্রার সূচনা করেছে।