১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৯ মাস রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। তাই প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের নাম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৫৪ বছরের অধিকাংশই ইতিবাচক নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রিয় বাংলাদেশ। দুর্ভাগ্যবশত অনাচার, অবিচার, দুর্নীতি ও অধিকারহীনতা গ্রাস করেছে আমাদের।
বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি স্তম্ভের একটি হলো গণতন্ত্র। কিন্তু এ পর্যন্ত সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৭বার। তারপরও দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক চর্চা এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
২০১৩ সাল পর্যন্ত পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আমার প্রথম বই "বাংলাদেশে গণতন্ত্র সোনার পাথরবাটি" প্রকাশনায়। একই নামে দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালে। দ্বিতীয় খণ্ডে কিছু ভুল থাকায় সেগুলো সংশোধন করে এবং ২০২৫ সালপর্যন্ত প্রকাশিত দুটি সাক্ষাৎকার ও নতুন নিবন্ধগুলো সংযুক্ত করে "বাংলাদেশে গণতন্ত্র সোনার পাথরবাটি" দ্বিতীয় খণ্ড (সংশোধিত সংস্করণ) প্রকাশ করা হলো। এই সংশোধিত সংস্করণে আমাদের জাতির রাজনৈতিক বিবর্তনের একটি ধারাবাহিক ইতিহাস উঠে এসেছে।
জবাবদিহিতা হচ্ছে গণতন্ত্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। নাগরিকদের কাছে সরকার ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি অনেকগুলো নিবন্ধে জোর দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা ও ক্ষমতায় ভারসাম্যহীনতার কারণে সকল ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় না। এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরতে চেষ্টা করা হয়েছে।
দুঃখজনকভাবে রাজনীতি আমাদের জাতিকে বিভক্ত করেছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় কখনো কখনো বিকৃত করা হয়েছে মহান
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। কিন্তু আমরা ইতিহাস বিকৃতির বিপক্ষে থেকে ব্যক্তি বা দলের প্রাপ্য মর্যাদা দিতে কুণ্ঠিত নই।
আশা করছি, এই বইয়ে উঠে আসা সুপারিশগুলো সামনে রেখে নতুন প্রজন্ম দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে সমর্থ হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমার লেখাগুলো কঠোর পরিশ্রমের সাথে প্রুফরিড করার জন্য আলমগীরসিকদার লোটন, প্রেসিডিয়ামসদস্য জাতীয়পার্টি-কেধন্যবাদ জানাই। আমার নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিগত সচিব অ্যাডভোকেট মোঃ আবু তৈয়ব ও সহকারী ব্যক্তিগত সচিব মো. আব্দুল হান্নান এবং আমার অফিস সহকারী মোঃ লায়েছ-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকরছি, যাদের সহায়তায় নিবন্ধগুলো সংকলন এবং প্রকাশনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।
গোলাম মোহাম্মদ কাদের, যাঁর রাজনৈতিক জনপরিচিতি জি এম কাদের হিসেবে, শিক্ষাগতভাবে যন্ত্র-প্রকৌশলী হয়েও রাজনীতিকে সঙ্গী করলেন। যন্ত্র-প্রকৌশলী যেমন যন্ত্রের পরিকল্পনা, উৎকর্ষ ও আধুনিকায়ন ঘটিয়ে আধুনিক জীবনকে সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছন্দ করেন, ঠিক তেমনি একই ব্রত নিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর রাজনৈতিক বৃত্তিকে বেছে নিয়েছেন। পেশাগত জীবনের শুরু নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড। তারপর এক লম্বা যাত্রা-বাংলাদেশ টোব্যাকো কোম্পানি, ইরাক কৃষি মন্ত্রণালয় এবং যমুনা তেল কোম্পানি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিকল্পনা ও অপারেশন্স-এর পরিচালক থাকাকালীন তাঁর প্রকৃত আত্ম-উন্মোচন-মানুষের জীবনকে সাশ্রয়ী, স্বচ্ছন্দ, আধুনিক করতে যন্ত্রের চেয়ে মানবিক স্পর্শ-সম্পন্ন রাজনীতিই উত্তম মাধ্যম, সেটিই তাঁর প্রকৃত কর্মক্ষেত্র। গত কয়েক শতকে সেই রাজনীতির ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ পদচারণ তাঁকে বাংলাদেশের সংগ্রামী নেতা ও চিন্তকদের অন্যতম পুরোধা রূপে রূপান্তরিত করেছে। জি এম কাদেরের রাজনৈতিক নিষ্ঠা তাঁকে লালমনিরহাট-৩ আসনে তিনবার এবং রংপুর-৩ আসন থেকে দুইবার জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হতে পথ করে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, জি এম কাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়-বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর রাজনীতির আরো একটি সাফল্য হলো, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান থেকে তাঁর অগ্রজ সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রয়াণের পর চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হওয়া।