আরিশ হাঁটু গেড়ে ইনায়ার সামনে বসে পড়লো। রূকসানা ইনায়ার হাত উপর থেকে ছেড়ে দিল। ফলস্বরূপ ইনায়ার হাত খাটের কাঠে বারি লাগবে কিন্তু তার আগেই আরিশ আগলে নিল। খুব যত্ন সহকারে।ইনায়ার হাত ধরে হাতে ব্লেড দিয়ে কাটা s অক্ষরের দিকে তাকিয়ে রইল।তার চোখের কোণে পানি জমে গেল।
তখন ইনায়া কে পাত্র পক্ষ দেখতে এসেছে শুনে বাড়ির সবাই একবার করে এসে পাত্রকে দেখে গিয়ে তারপর যার যার ঘরে চলে গিয়েছিল। কিন্তু আবার যখন শুনলো ইনায়ার বিয়ে হবে তাও আবার আরিশের সাথে তখন আবার সবাই এসে ভিড় জমিয়ে দিল। এখন সবার দৃষ্টি ইনায়ার এবং আরিশের দিকে।
কেউ মনে মনে ইনায়ার কপালে দুঃখ আছে এইটা ভেবে আনন্দ পাচ্ছে আবার কেউ ভাবছে মেয়েটার কপালে মনে হয় না সুখ জুটবে। লতা ইসলাম তো মুখে কাপড় গুঁজে কাঁদছে।সে জানে না তার মেয়ের কপালে কি আছে।
আরিশ আস্তে আস্তে ইনায়ার হাত নিজের মুখের সামনে আনল। তারপর সবার সামনে বিনা দ্বিধায় ইনায়া হাতের কাঁটা দাগে শব্দ করে চুমু খায়। ইনায়ার নিঃশ্বাস যেন ভারি হয়ে ওঠল। এ প্রথম কোন পুরুষ তাকে স্পর্শ করেছে। বিয়ে নামক পবিত্র বন্ধনে পবিত্র চুম্বন। প্রথম চুম্বন।
ইনায়া আরিশের দিকে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকায়।তার চোখ পানিতে ছল ছল করছে।আরিশ নিজের ঠোঁট ইনায়ার হাতের কাছে রেখেই শান্ত কিন্তু ভালোবাসাময় কণ্ঠে বলে,,,
--"সবাই তো ভালোবেসে প্রথম স্পর্শ কপালে ছোঁয়ায়। কিন্তু আমি না হয় প্রথম স্পর্শ তোমার অতীতের কাঁটা ঘায়ে দিলাম।যদি তুমি এই সামান্য কাঁটা দাগের কারণে কলঙ্কিত হও, আমি না হয় নিজের পবিত্র ঠোঁটের স্পর্শ দিয়ে তোমার কলঙ্ক মুছে ফেললাম।"
নাজনীন নেছা নাবিলার জন্ম ২০০৭ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর।জন্মগ্রহণ করেছেন গাজীপুর জেলার শ্রীপুর গ্রামে।পিতার নাম মোঃ নাজিম উদ্দিন,যিনি ২০২২ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর হার্ট অ্যাটাক করার পর ১৮ই সেপ্টেম্বর ঢাকা হৃদরোগ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।মাতার নাম সূবর্না শারমিন। লেখিকা শ্রীপুর পশ্চিম সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী সম্পূর্ণ করেছেন, এবং শ্রীপুর গার্লস হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক সম্পুর্ণ করেছেন। বর্তমানে তিনি শ্রীপুর মিজানুর রহমান খান ডিগ্রি মহিলা কলেজে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়াশোনা করছেন।লেখিকা এক সময় মনে করতেন উপন্যাস পড়ার মানে হয়তো সময় নষ্ট করা। তাই সবসময় উপন্যাস জগৎ থেকে দূরে ছিলেন। কিন্তু একদিন উনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কিছু গল্প পড়ার সুযোগ পান এবং সেই সুযোগকে অবহেলা না করে কাজে লাগান।এর পর থেকে উনার মনে উপন্যাসের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। উপন্যাস জগতে তিনি যুক্ত হয়েছেন বেশি দিন হয়নি। দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় একবার দুইটা গল্প পড়েছিলেন তারপর আবার এসএসসি পরীক্ষার পর উপন্যাস পড়া শুরু করনে। হঠাৎ উনার মনে হলো চাইলে উনিও উপন্যাস লেখার চেষ্টা করতে পারেন।তাই সামাজিক যোগাযোগের সাহায্য নিয়ে উপন্যাস লেখা শুরু করলেন। এবং অচেনা ছায়া তুমি উনার মলাটে আসা প্রথম বই। এই বই পাঠক এবং পাঠিকাদের মনে যায়গা করে নিবে বলে লেখিকা আশাবাদী।