সালটা ১৯৮৮।আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে মাত্রই সিনাই উপদ্বীপ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করলেও গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের আগ্রাসনে অতিষ্ঠ হয়ে মুক্তিপাগল ফিলিস্তিনীরা হাতের কাছে যা পেয়েছে তা-ই নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে, শুরু হয়েছে ইন্তিফাদা আন্দোলন।
মেজর রায়হানরাশীদ–বাংলাদেশ আর্মিইন্টেলিজেন্সের তুখোড় এজেন্ট। আরব লিগ নেতৃবৃন্দের বিশেষ অনুরোধে অত্যন্ত বিপজ্জনক এক গোপন মিশন নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে অনুপ্রবেশ করেছে। তার লক্ষ্য বোলতা হয়ে ঢুকে গুঞ্জন সৃষ্টি করা। সহকারী হিসেবে প্রথমেই পরিচিত হলো ফটোগ্রাফিক মেমোরির অধিকারী ফয়সলের সাথে। যে কিনা মিশরীয়আল-মুকাবারাতেরঅপারেটিভ।
আবু সালেম–ইন্তিফাদা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান এই নেতা গাজার শাতি ক্যাম্পে আত্মগোপন করে আছেন। চার মাস ধরে তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর চোখকে ধোঁকা দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ফিলিস্তিনিদের মুক্তির জন্য চালিয়ে যাচ্ছেন লড়াই। মোসাদ তার মাথার দাম নির্ধারণ করেছে পাঁচ লক্ষ শেকেল।
রায়হান ইসরায়েলে ঢুকেই শুরু করল গুঞ্জন। গুপ্তচর হিসেবে শত্রুভূমির ঠিক ভেতরেই মাথা খাটিয়ে ফাঁকি দিতে শুরু করল মোসাদের ভয়ানক শ্যেনদৃষ্টিকে। আর একের পর এক বসাতে লাগল বোলতার কামড়। কিন্তু শত্রুও তো ঘোল খাওয়ার পাত্র নয়। সমানে সমানে চলল লড়াই। ওদিকে আবু সালেমকে উদ্ধার করতে গেল মিশরীয় সেনাবাহিনির তিন সৈন্য। কী অপেক্ষা করছে ওদের সবার সামনে? উত্তাল এই সময়ে, টলোমলো এই পটভূমিতে, ছায়ার অন্তরালে কীসের নাটক ঘটে যাচ্ছে সবার চোখের আড়ালে? এই দুই অপারেশন কি পারবে তাদের সামনে থাকা এক ও অভিন্ন লক্ষ্যটা উদ্ধার করতে? রায়হান, ফয়সল, সারা আসফা কিংবা আবু সালেম–কী আছে তাদের ভাগ্যে? কেউ কেউ কি হারিয়ে যাবে আজীবনের জন্য?
আর ফারাও–কে সে, কী তার পরিচয়?
রোমাঞ্চ, বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনা, বিশ্বাসঘাতকতা আর ভালোবাসার এক অসামান্য কাহিনিগাঁথা অন্তর্ঘাত। যারা পেজ টার্নার বই পছন্দ করেন আর গল্পের মাঝে খুঁজে নিতে চান আবেগঘন আখ্যান, অয়ন ইসলামের অন্তর্ঘাত তাদেরকে নিয়ে যাবে চমৎকার এক যাত্রায়।