প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 29 Jun 2026 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
"আমি প্রায়ই এই পাহাড়গুলোয় হাঁটতে আসি," সেনাসদস্যটির দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলি। চওড়া গড়নের ছোটখাটো মানুষটি উচ্চতায় আমার চেয়ে খুব একটা বড় নয়। পরনে সামরিক পোশাক আর চোখে এক ধরণের তীক্ষ্ণ অন্ধকার চাউনি। "একবার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে এখানে এসেছিলাম, ১৯৯৯ সালের কথা। আপনাদের কয়েকজন সৈনিক আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল।"
সেনাটি হেসে একদিকের পথ দেখিয়ে বলে, "ওটা ওই পাশের ঘটনা। আমি তখন ওখানেই ছিলাম।"
রাজা শেহাদেহ যখন সত্তর দশকের শেষের দিকে ফিলিস্তিনের পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরতেন, তখন তিনি ভাবতেও পারেননি যে চোখের সামনের এই চেনা প্রকৃতি একদিন উধাও হয়ে যাবে। বিগত কয়েক বছরে তাঁর এই পায়ে হেঁটে ঘোরার আনন্দটুকু আর আগের মতো সহজ নেই, বরং কোনো কোনো সময় তা রীতিমতো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাঁর চেনা ঘরবাড়ি ওয়েস্ট ব্যাংকের রামাল্লায় আর যে পথগুলো ধরে তিনি রোজ হাঁটেন, তা এখন স্থানীয় ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েল থেকে আসা নতুন বসতি স্থাপনকারীদের এক চরম সংঘাতের ময়দান।
এই চমৎকার ও আবেগঘন বইটিতে ১৯৭৮ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী ছয়টি হাঁটার গল্পে আমরা রাজার সঙ্গী হই। শুরুর দিকের ভ্রমণগুলো ছিল ভীষণ শান্ত, যা লেখককে তাঁর মাতৃভূমির চরিত্র নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সুযোগ করে দেয়। পাহাড়ের ঢালে সারি সারি জলপাই গাছ, পবিত্র ঝরনার ধারা বয়ে যাওয়া সবুজ উপত্যকা, বুনো ফুল আর হাজার বছরের পুরনো মঠ মিলিয়ে এক মায়াবী পরিবেশ। এই জাদুকরী অঞ্চলের প্রতি শেহাদেহের গভীর ভালোবাসা বইটির প্রতিটি পাতায় মিশে আছে। কিন্তু দিন বদলের সাথে সাথে বসতি আর দেয়াল তোলার জন্য যখন চারদিকে কংক্রিটের রাজত্ব তৈরি হতে থাকে, তখন তিনি দেখেন যে পুরনো চেনা পথগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যে গ্রামীণ পথগুলোতে তিনি একসময় স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতেন, তা এখন এক অবরুদ্ধ সীমানা। ইসরায়েলি সীমান্ত টহল দল তাঁকে হয়রানি করে, আতঙ্কে বুক কেঁপে ওঠে যখন তাঁর এক তরুণ সহযাত্রী মাটি থেকে একটি অবিস্ফোরিত ক্ষেপণাস্ত্র কুড়িয়ে নেয়, এমনকি একবার স্ত্রীর সাথে হাঁটার সময় তীব্র গুলির মুখেও পড়তে হয় তাঁকে।
মধ্যপ্রাচ্যের অজস্র ট্র্যাজেডির ভিড়ে নিজের ইচ্ছেমতো চেনা প্রকৃতিতে ঘুরে বেড়ানোর মতো একটি সাধারণ আনন্দ হারিয়ে যাওয়াকে হয়তো খুব ছোট বিষয় মনে হতে পারে। কিন্তু ফিলিস্তিনের পথে প্রান্তরে হারিয়ে যাওয়া এই পায়ের ছাপগুলো আসলে এক বুকভাঙা রূপক হয়ে ওঠে যা নিজের ভূমি থেকে বিতাড়িত পুরো একটি জাতির বঞ্চনা আর বেদনার কথাই মনে করিয়ে দেয়।