প্রথম অধ্যায়ে প্রোলগ্ বা সূচনাপর্ব মূল গ্রন্থের পটভূমি ও তা পাঠককে গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায়ের বিষয়বস্তু বোঝার জন্য প্রস্তুত করবে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে কুরআন ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্যাদি আলোচিত হয়েছে। তৃতীয় অধ্যায়ের বিষয়বস্তু হচ্ছে মানব সৃষ্টি ও ভ্রুণ বিকাশ। চতুর্থ অধ্যায়ে প্রাণিবিজ্ঞান এর পঞ্চম অধ্যায়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
কুরআনে জ্ঞান সম্পর্কিত অনেক আয়াত রয়েছে। আর তা আমাদেরকে সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করার আহ্বান জানায়: আকাশ, উজ্জ্বল তারকারাশি এবং শূন্যে তাদের আশ্চর্যজনক গতিবিধি এবং মহাজাগতিক ক্রম যা তাদের সকলকে নিয়ন্ত্রণ করে।
WikiIslam-সহ ও অন্যান্য ইসলাম-বিদ্বেষীদের মতে কুরআনে উল্লিখিত বিভিন্ন আয়াতের বক্তব্যকে বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল বলা হয়েছে।
বিভিন্ন অধ্যায়ে কুরআন ও বিজ্ঞানের সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তি, উইকিইসলাম-এর অপপ্রচার, এবং তথাকথিত স্বঘোষিত ‘মুক্তমনা’, ‘যুক্তিবাদী’ ও ‘বিজ্ঞানমনস্ক’ নাস্তিকদের উত্থাপিত অভিযোগসমূহের যুক্তিনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক প্রতিউত্তর প্রদান করা হয়েছে। বিশেষভাবে, কুরআনের বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিতসমূহকে কেন্দ্র করে যেসব অপব্যাখ্যা ও কৃত্রিম অসঙ্গতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, সেসবের জবাব এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা কুরআনের ঐশী সত্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
বিশ্লেষণ প্রমাণ করেÑ কুরআন কোনো মানবসৃষ্ট গ্রন্থ নয়, বরং তা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এক পরিপূর্ণ জীবনবিধান। এর প্রতিটি আয়াত, প্রতিটি শব্দে নিহিত রয়েছে চিরন্তন সত্য, যা যুগে যুগে মানুষের হৃদয়কে আলোড়িত করেছে, পথ দেখিয়েছে, এবং সন্দেহের সকল দ্বার চিরতরে রুদ্ধ করেছে।
Title
কুরআন ও বিজ্ঞান : বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচারের যুক্তিনিষ্ঠ জবাব
প্রফেসর ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৬ সালে বগুড়ায়। প্রফেসর আজহার ১৯৭২ সালে লন্ডন থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় এবং গবেষণা কর্মে নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমানে Professor Emeritus - তিনি একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসাবে ১১ বছর কর্মরত ছিলেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ১৬টি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিত্ব ১৫টি সৃজনশীল গ্রন্থের ও অধ্যায়ের প্রণেতা। এই লেখকের সম্পাদিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের কার্যবিবরণী যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরী অব কংগ্রেস এবং যুক্তরাজ্য, ইতালী, জাপান চীন, ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীগুলোতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। প্রফেসর ইসলাম সাংস্কৃতিক, সামাজিক, সমসাময়িক, মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত এবং পারমাণবিক বিজ্ঞান বিষয়ে দৈনিক ও সাপ্তাহিকীতে লিখেন। তাঁর অধীত বিষয়ে ২২৩টি গবেষণামূলক নিবন্ধ এবং প্রায় ৭৫টি পর্যালোচনামূলক ও সাধারণ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।প্রফেসর ইসলামের রচিত ইংরেজী গ্রন্থ 'Bedevilled World' নয়াদিল্লী থেকে জুলাই ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থের আরবী রূপান্তর লেবানন থেকে প্রকাশিত হবে। হবে এছাড়া এছাড়া নিউইয়র্কের Nova Science Publishers, Inc. -এর আমইক্ষা প্রকাশিত গ্রন্থের ৫০-পৃষ্ঠার একটি অধ্যায়ের রচয়িতা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী শিক্ষা ও গবেষণামূলক সৃজনশীলতায় প্রতিনিয়ত শ্রমনিষ্ঠ এবং নিমগ্ন রয়েছেন। দেশভ্রমণ, গবেষণা ও সেমিনার সিম্পোজিয়ামে অংশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রফেসর ইসলাম এপর্যন্ত পৃথিবীর ৩০টির অধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন। দেশ বিদেশের কয়েকটি বিজ্ঞান সমিতির সদস্য ছাড়াও তিনি ইতালীর আন্তর্জাতিক তত্ত্বীয় পদার্থ বিজ্ঞান কেন্দ্র ICTP-এর একজন সিনিয়র এসোসিয়েট, বিজ্ঞান অনুষদের প্রাক্তন ডীন এবং বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। প্রফেসর ইসলাম বাংলা একাডেমীর আজীবন সদস্য, আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি ও নিউ ইয়র্ক একাডেমি অব সায়েন্সর সদস্য। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ একাডেমী অব সায়েন্স ও লন্ডন ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্সের নির্বাচিত ফেলো।