প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 04 Jun 2026 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
দিল্লি কলেজ ছিল একটি কালজয়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর মাওলানা মামলুকুল আলি ছিলেন ওই যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম। দিল্লি কলেজের মাধ্যমে তিনি শাহ ওলিউল্লাহর শিক্ষা ও চিন্তা-চেতনাকে শুধু আপন যুগেই প্রচার-প্রসার করেননি; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পর্যন্ত সেটাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি প্রশস্ত পথ রচনা করে গেছেন। তিনি ছিলেন এমন একজন উস্তাদ, যিনি শিক্ষার্থীদের হৃদয় গহীনে প্রবেশ করে তাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার আগুন জ্বালাতে পারতেন।
দিল্লি কলেজের মাধ্যমে তিনি এমন কিছু ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে পেরেছিলেন, যাদের নাম শোনার সাথে সাথেই শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে। যেমন মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি, মাওলানা মুহাম্মদ কাসেম নানুতাবি, ডেপুটি নাজির আহমদ, শামসুল উলামা মুনশি জাকাউল্লাহ, তবকাতুশ-শুআরায়ে হিন্দের লেখক মুনশি কারিমুদ্দিন পানিপতি। তারা নিজের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতা বলে কলেজ প্রশাসনকে এমনভাবে প্রভাবিত করেন যে, সেখানে দ্বীনি খেদমতের বিশাল এক ময়দান তৈরি করে নেন।
ভারতীয় মুসলমানদের ওপর ছোট কিয়ামত অর্থাৎ ১৮৫৭-এর স্বাধীনতা আন্দোলনকে বলা হয় সিপাহি বিপ্লব। অথচ এটি ছিল শাহ ওলিউল্লাহর স্বপ্ন, শাহ আবদুল আজিজের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সাইয়েদ আহমদ শহিদ ও শাহ ইসমাইল শহিদের কুরবানি ও শাহ মুহাম্মদ ইসহাকের দূরদর্শিতার ফল। সিপাহি বিপ্লব তো ছিল উপলক্ষ মাত্র। মূল নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা মামলুকুল আলির হাতেগড়া সৈনিকেরা। আর এটি সম্ভব হয়েছিল দিল্লি কলেজের মাধ্যমে। এ পথেই ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলন জোরদার হয়। ধীরে ধীরে আসে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। ‘দিল্লি কলেজ’ বইয়ে সেই অমর ইতিহাসই সার্থকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।