“মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবী ‘রাওয়াইউ ইকবাল’ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এখন তা পরিমার্জন ও সংযোজনের পর উর্দুভাষায় প্রকাশিত হয়েছে, যা প্রত্যেক ইকবালপ্রেমীর পাঠযোগ্য। এ বই থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় আলী মিয়াঁ ইকবালকে আরববিশ্বের সামনে কোন কোন দিক থেকে উপস্থাপন করেছেন। অনুবাদ বা ভাবানুবাদ—যাই বলা হোক না কেন—খুবই সাবলীল ও প্রাণবন্ত হয়েছে।”
—মাওলানা আবদুল মজিদ দরিয়াবাদী
“ইকবালের কবিতা নিয়ে লেখার সবচেয়ে বড় হক মাওলানারই ছিল, এবং তিনি এ গ্রন্থে তা চমৎকারভাবে আদায় করেছেন। তিনি ইকবালের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা ও বিক্ষিপ্ত শ্লোকসমূহ থেকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, তার আত্মা, মুসলিম উম্মাহর তাজদীদ ও সংস্কার, পাশ্চাত্য সভ্যতা ও তার জ্ঞানবিজ্ঞান বিষয়ে ইকবালের চিন্তাধারার সারকথা উপস্থাপন করেছেন, যার মাধ্যমে ইকবালের চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
—মাওলানা শাহ মঈনুদ্দীন আহমদ নদবী
“মাওলানা আলী মিয়াঁ আল্লামা ইকবালের কবিতা ও শ্লোকের নির্বাচনে অসাধারণ রুচিশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি এই রত্নভান্ডার থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল মুক্তো ও হীরা বেছে নিয়েছেন।
লেখক যে সূক্ষ্মতা, প্রাঞ্জলতা ও গভীর দৃষ্টিতে ইকবালের কবিতার ব্যাখ্যা ও অনুবাদ করেছেন, তার যত প্রশংসাই করা হোক না কেন তা কম হবে। বইটি পড়তে পড়তে মনে হয়, শিবলীর কলম, গাযালীর চিন্তা আর ইবনে তাইমিয়ার উদ্দীপনা ও আন্তরিকতা যেন এই রচনায় একসাথে কাজ করছে। ইকবালের উপর অনেক ভালো বই এসেছে, কিন্তু এই বইটি লিখেছেন সেই সংগ্রামী আলীম, যিনি ইকবালের ‘মার্দে মুমিন’-এর প্রতিচ্ছবি। এজন্যই যথার্থভাবে বলা যায় যে, নুকুশে ইকবাল-এ ইকবালের চিন্তা ও আত্মা এমনভাবে মিশে আছে, যেমন ফুলের মধ্যে সুবাস এবং তারার মধ্যে আলো।”
আল্লাহর পথের এক মহান দাঈ,ইলমে ওহীর বাতিঘর যুগশ্রেষ্ঠ মনীষী। খাঁটি আরব রক্তের গর্বিত বাহক।বিশ্বময় হেদায়েতের রোশনি বিকিরণকারী।উম্মতের রাহবর ও মুরুব্বি। কল্যাণের পথে আহ্বানে চিরজাগ্রত কর্মবীর। জন্ম ১৯১৪ ঈসাব্দে। ভারতের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার সূতিকাগার উত্তর প্রদেশের রাজধানী লাখনৌর রায়বেরেলীতে। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া আদ্যোপান্তই দারুলউলুম নদওয়াতুল উলামায়। অধ্যাপনা জীবনের সিংহভাগও এই প্রতিষ্ঠানে নিবেদিত ছিলেন। আল্লামা নদভীর খ্যাতির সূচনা হয় বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে "সীরাতে সাইয়েদ আহমদ শহীদ" রচনার মাধ্যমে।গ্রন্থটি গোটা ভারতবর্ষে তাকে পরিচিত করে তুলে।এরপর তিনি রচনা করেন 'মা যা খাসিরাল আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমিন' (মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল) নামক কালজয়ী গ্রন্থ।যা তাকে প্রথমত আরববিশ্বে ও পরবর্রতীতে বৈশ্বিক সুখ্যাতি এনে দেয়। এ পর্যন্ত গ্রন্থটির শতশত সংস্করণ বের হয়েছে। বিগত প্রায় পৌনে এক শতাব্দী ধরে তার কলম অবিশ্রান্তভাবে লিখেছে মুসলিম ইতিহাসের গৌরদীপ্ত অধ্যায়গুলোর ইতিবৃত্ত। সীরাত থেকে ইতিহাস, ইতিহাস থেকে দর্শন ও সাহিত্য পর্যন্ত সর্বত্রই তার অবাধ বিচরণ। উর্দু থেকে তার আরবী রচনায় যেন অধিকতর অনবদ্য। আল্লামা নদভী জীবনে যেমন পরিশ্রম করেছেন, তেমনি তার শ্বীকৃতিও পেয়েছেন। মুসলিম বিশ্বের নোবেল হিসেবে খ্যাত বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন।১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে দুবাইয়ে তিনি বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক ইসলামী ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হন।১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক সেন্টারের পক্ষ থেকে আলী নদভীকে সুলতান ব্রুনাই এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক বহু ইসলামী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সদস্য ছিলেন। তিনি একাধারে রাবেতায়ে আলমে ইসলামী এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক সেন্টারের সভাপতি ছিলেন। লাখনৌর বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুলউলুম নাদওয়াতুল-উলামা' এর রেকটর ও ভারতীয় মুসলনমানদের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফরম মুসলিম পারসোন্যাল ল' বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। ইসলামের এই মহান সংস্কারক ১৯৯৯ সনের ৩১ ডিসেম্বর জুমার আগে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াতরত অবস্থায় ইন্তিকাল করেন।