কুরআন মাজীদের ইরশাদ- ‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ্জ করা ফরয। কেউ (এটা) অস্বীকার করলে আল্লাহ তো বিশ্বজগতের সমস্ত মানুষ হতে বেনিয়ায। ’ (সূরা আলে ইমরান (৩), আয়াত ৯৭)
সুতরাং হজ্জ আল্লাহর হক, আল্লাহর ইবাদত। হজ্জের সফর একটি ইবাদতের সফর। এই ইবাদত এবং এই সফর তখনই সফল ও সার্থক হবে, যখন একে সেভাবেই আঞ্জাম দেওয়া হবে যেভাবে আল্লাহ আঞ্জাম দিতে বলেছেন এবং যেভাবে আঞ্জাম দিয়ে দেখিয়েছেন তাঁর প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
ইসলামের অন্যান্য ইবাদতের মতো হজ্জে-বাইতুল্লাহর ক্ষেত্রেও এটি স্বীকৃত যে, তার বাহ্যিক ও আত্মিক পূর্ণতার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ কাম্য। যার হজ্জ ও ইবাদতে সুন্নাতে নববীর যত অনুসরণ থাকবে, তার হজ্জ ও ইবাদত তত জানদার ও শানদার হবে। তত ফলদায়ক ও ফলপ্রসূ হবে। এটি স্বীকৃত ও পরীক্ষিত বিষয়।
অতএব বাইতুল্লাহর মুসাফিরের কর্তব্য—হজ্জের সফরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পদে পদে এবং প্রতি পদক্ষেপে সুন্নাতে নববী খুঁজে খুঁজে তার অনুসরণের চেষ্টা করা। তবেই ইনশাআল্লাহ তার হজ্জ মাকবুল ও মাবরূর হবে। তার জীবনে হজ্জের শিক্ষা পরিলক্ষিত হবে। হজ্জের চেতনা বাস্তবায়িত হবে। হজ্জ থেকে সে ফিরে আসবে নিষ্পাপ মানব হয়ে, নিষ্পাপ থাকার চেতনা নিয়ে।
এর জন্য প্রয়োজন—হজ্জের আগে এবং হজ্জের সময়ে ভালোভাবে জেনে নেওয়া—কীভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ করেছেন; করতে বলেছেন এবং হজ্জের রূহ ও রূহানিয়াত হাছিলের জন্য হজ্জের সফরে তিনি কোন্ কোন্ বিষয় ও আদাবের প্রতি বিশেষ লক্ষ রাখতে বলেছেন।
এ ক্ষেত্রে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘বিদায় হজ্জের’ সফরের অধ্যয়ন ও অনুধাবন অত্যন্ত বরকতময় ও ফলপ্রসূ।
ডক্টর আবদুল ওয়াহহাব বিন নাসির আত তুরাইরি। 'ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ আল-ইসলামিয়া' বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক। 'উসূলুদ-দীন' কলেজ থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ আল-ইসলামিয়া' বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্টগ্রাজুয়েট সমাপন করেন। তিনি 'উলূমুস-সুন্নাতিন-নাবাবিয়্যা' সাবজেক্টে গবেষণামূলক প্রবন্ধ (Thesis) রচনা করেন। আর 'উলুমুশ-শারঈয়্যা' সাবজেক্টে বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। বহুমুখী দীনী খেদমতে তার কর্মজীবন প্রাণচঞ্চল হয়ে আছে: (১) তিনি ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাঊদ আল ইসলামিয়া' বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। (২) ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের শরিয়া বোর্ডের উপদেষ্টা (৩) ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে ইসলাম টুডে' ওয়েবসাইটটির তত্ত্বাবধায়ক। (৪) 'দোহার একাডেমি' কর্তৃক কুয়েত এবং কাতারে অনুষ্ঠিত সেমিনারগুলোর বিশেষ আলোচক। (৫) বাদশাহ আবদুল আজিজ মসজিদের খতিব। (৬) আরব রাষ্ট্রগুলোতে পরিচালিত দাওয়াহ কার্যক্রমের নিয়মিত আলোচক। তাঁর রচিত কিছু গ্রন্থ: (১) আল ইয়াওমুন-নাবাবি (২) কাআন্নাকা মা'আহু (আপনি যেন নবিজি -এর সাথে হজ্জ করছেন) (৩) কসাসুন-নাবাবিয়্যা (৪) লাওহাতুন-নাবাবিয়্যা (৫) হাদিসুল গদীর (৬) রিহলাতুল হজ্জ।