অস্ট্রীয় মনোবিজ্ঞানী উইলহেম রাইখ রচিত 'দ্য মাস সাইকোলজি অব ফ্যাসিজম' (জার্মান: Die Massenpsychologie des Faschismus) মূলত ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রভাবশালী গ্রন্থ। বইটিতে রাইখ ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসকরা মানুষের অবদমিত যৌনতা ও মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকে। [1, 2, 3]
বইটির মূল বিষয়বস্তু নিচে তুলে ধরা হলো:
* যৌন অবদমন ও কর্তৃত্ববাদ: রাইখ যুক্তি দেন যে, শৈশবে পরিবার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক যৌন আকাঙ্ক্ষাকে কঠোরভাবে দমন করা হয়। এই অবদমন মানুষের মধ্যে এক ধরণের ভয়, আজ্ঞাবহতা এবং স্বৈরাচারী মানসিকতা তৈরি করে, যা পরবর্তীতে তাদের ফ্যাসিবাদী আদর্শের প্রতি অনুগত হতে সাহায্য করে।
* পিতৃতান্ত্রিক পরিবার কাঠামো: তাঁর মতে, পিতৃতান্ত্রিক পরিবার হলো রাষ্ট্রের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ। পরিবারে পিতার প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য দেখানোর অভ্যাসটিই পরে বড় হয়ে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী বা ‘ফুয়েরার’-এর প্রতি অন্ধ আনুগত্য তৈরি করে।
* আবেগের প্লেগ (Emotional Plague): রাইখ মধ্যবিত্ত ও নিচু বুর্জোয়াদের মানসিক অবস্থাকে ‘আবেগের প্লেগ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের ভেতরের হতাশা, ঘৃণা এবং ঈর্ষাকে ফ্যাসিস্টরা জাতীয়তাবাদ বা বর্ণবাদের দিকে পরিচালিত করে।
* ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়: রাইখ মনে করতেন ফ্যাসিবাদ কেবল হিটলার বা মুসোলিনির মতো কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট দলের সৃষ্টি নয়; বরং এটি হলো সাধারণ মানুষের অবদমিত চরিত্র-কাঠামোর একটি সংগঠিত রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ।
* ক্যারেক্টার আর্মার (Character Armor): মানুষের অবদমিত আবেগ যখন শরীরে ও মনে এক ধরণের স্থবিরতা বা প্রতিরক্ষা দেয়াল তৈরি করে, রাইখ তাকে ‘ক্যারেক্টার আর্মার’ বলেছেন। ফ্যাসিবাদ এই জড়তা বা রক্ষণশীলতাকে পুঁজি করেই ডানা মেলে।
সহজ কথায়, বইটি দেখায় যে রাজনৈতিক পরিবর্তন কেবল অর্থনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমে সম্ভব নয়, বরং মানুষের গভীর মনস্তাত্ত্বিক মুক্তি ও যৌন অবদমন থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।