বাংলাদেশর অভ্যুদয়: কানাডার কূটনৈতিক টানাপোড়েন (দ্বিতীয় খণ্ড)- দ্বিতীয় খণ্ডের সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশর অভ্যুদয়: কানাডার কূটনৈতিক টানাপোড়েন (দ্বিতীয় খণ্ড) - এই খণ্ডটি চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত| এই অধ্যায়গুলোতে কানাডার বিভিন্ন উদ্যোগ ও কূটনৈতিক দোটানা, গৃহীত পদক্ষেপের কালানুক্রমিক বিবরণ, বাংলাদেশের জন্মের পরপরই দেশটির ¯^ীকৃতি প্রদানের প্রক্রিয়া এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সম্পদ বরাদ্দের বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে| অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির কারণে কানাডা শুরুতে সরাসরি এই সংকটে জড়াতে চায়নি| তবে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হওয়া সত্ত্বেও শেখ মুজিবুর রহমানকে যেভাবে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছিল, তা কানাডাকে ক্ষুব্ধ করেছিল| পাশাপাশি বাঙালিদের ওপর চলমান সামরিক দমন-পীড়নের ভয়াবহ পরিণাম কানাডাকে ব্যথিত করেছিল|
তৎকালীন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে কানাডা বেশ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে এবং ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে সরাসরি না জড়িয়ে একটি ‘হস্তক্ষেপহীন নীতি’ বজায় রাখে| তবে তারা ¯^াধীনভাবে এই সংকট নিরসনের নানা পথ খুঁজছিল| এর মধ্যে ছিল ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের সংযম প্রদর্শনের পরামর্শ দেওয়া, সম্মিলিতভাবে জাতিসংঘকে আহ্বান জানানো, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোকে তহবিল প্রদান এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জন্য জোরালো লবিং করা| নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে কানাডা একটি স্পষ্ট অবস্থান নিতে দেরি করে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সক্ষম হয়নি| কানাডা মূলত আশঙ্কা করেছিল যে, বাংলাদেশ ইস্যুতে কোনো প্রকাশ্য আলোচনা কুইবেক বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উসকে দিতে পারে, যারা বাঙালিদের মাতৃভূমি রক্ষার লড়াইয়ের সাথে নিজেদের ¯^াধীনতার সংগ্রামের যোগসূত্র খুঁজে পেতে পারত|