বাংলাদেশের অভ্যুদয়: কানাডার কূটনৈতিক টানাপড়েন (প্রথম খণ্ড)- এই খণ্ডটি ছয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত| এতে কানাডা ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, একটি গোপন সামরিক হামলা, কানাডার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা, কানাডিয়ান জনমতামত, এনজিওগুলোর সম্পৃক্ততা এবং কানাডার হাউস অফ কমন্স ও সিনেটে চলা বিতর্কগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে| কানাডা সরকার বিশ্বাস করতো যে, এই সংকটে যেকোনো ধরনের সরাসরি অবস্থান গ্রহণ করা তাদের জন্য “রাজনৈতিকভাবে অশোভন” হতে পারে|
সামরিক শাসনের সেই উত্তাল সময়ে আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছিল গণতন্ত্র রক্ষা, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, দমনমূলক ব্যবস্থা বন্ধ করা, সাংবিধানিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং মানবিক সহায়তার মতো বিষয়গুলো- যা মূলত কানাডার গভীর উদ্বেগ ও এক ধরণের অসহায়ত্বকেই প্রতিফলিত করে| কানাডার তৎকালীন মূল লক্ষ্য ছিল বাস্তুচ্যুত বাঙালি ও ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত মানবিক ত্রাণ নিশ্চিত করা|
যদিও সংবাদমাধ্যম, কানাডিয়ান এনজিও এবং প্রবাসী বাঙালিরা বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারকে জোরালো সমর্থন দিচ্ছিল, তবে কানাডা সরকার সাধারণ কানাডিয়ানদের দাবির প্রতি বেশি মনোযোগী ছিল| অধিকাংশ নাগরিকের চাওয়া ছিল কানাডা যেন জাতিসংঘকে ব্যবহারের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান খোঁজে| পাকিস্তান ভেঙে একটি ¯^াধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত হোক এমনটি কানাডার ভাবনায় কখনোই ছিল না| বরং সাধারণ জনগণের মতোই কানাডা চেয়েছিল পাকিস্তান যেন একটি অখণ্ড, পুনর্গঠিত এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকে|