ইমানুয়েল কান্ট (১৭২৪-১৮০৪) ছিলেন আঠারো শতকের জার্মান দার্শনিক। তিনি ছিলেন দর্শন ও নন্দনতত্ত্বের নতুন তত্ত্বকথার প্রবর্তক। কান্টের 'ক্রিটিক অব জাজমেন্ট' গ্রন্থের অবদান হলো, 'সুন্দর' ও 'সৌন্দর্য' পদদ্বয়ে যে অর্থগত পার্থক্য রয়েছে সেটি তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেন। কান্ট সৌন্দর্যকে বিশ্বজনীনতার প্রতীকরূপে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
'সৌন্দর্য' প্রজ্ঞার কথা বলে সৃষ্টিশীলতার কথা বলে পারপোসিভনেসের (ফাইনালিটি) কথা বলে।
কান্টের 'ক্রিটিক অব জাজমেন্ট' গ্রন্থে আছে সুন্দরানুভূতির এবং সৌন্দর্যবিষয়ক অবধারণের অসংখ্য সূত্র। আর উল্লিখিত গ্রন্থের প্রতিটি অনুচ্ছেদে আছে এ ধরনের সূত্রাবলি। এখানেই কান্টের এ গ্রন্থের অবদান অনস্বীকার্য।
সাধারণ শিক্ষিত পাঠকের কথা বিবেচনায় নিয়ে 'কান্টের নন্দনতত্ত্ব এবং শিল্পদর্শন' গ্রন্থে লেখক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম সর্বপ্রথম কান্টের নন্দনতত্ত্বের কয়েকটি ভিন্নধর্মী বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করেছেন। তাও প্রাঞ্জল ভাষায়।
এ গ্রন্থের আলোচনার কান্টের অভিজ্ঞতাবাদী নন্দনতত্ত্ব এবং কলাকৈবল্যবাদকে (শিল্পদর্শন) প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জগৎ-জীবনের সৌন্দর্যবোধ এবং শিল্প ও প্রতিভা সম্পর্কে কান্ট যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, খুব সংক্ষেপে তা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও করা হয়েছে 'কান্টের নন্দনতত্ত্ব এবং শিল্পদর্শন' গ্রন্থে। এ গ্রন্থের লক্ষ্য একটাই, সাধারণ পাঠকের কাছে কান্টের নন্দনতত্ত্বকে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরীক্ষাধর্মী করে তোলা।
পাঠককুলের মূল্যবান অভিমত পেলে আগামীতে ইমানুয়েল কান্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশন দর্শন বিষয়ে সিরিজ গ্রন্থ প্রকাশ করবে।
জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরে। পড়ালেখা ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক। নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ সৈয়দ সাইফুল ইসলাম ব্যক্তিগত ও কর্মময় জীবনে শুদ্ধ জীবনচর্চায় অবিচল। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়ও অটল। তিনি এই সাধনায় ব্রত সেই কিশোর বয়স থেকে। সাড়ে তিন দশক ধরে সাহিত্য ও দর্শনের একনিষ্ঠ এবং তত্ত্বপিপাসু পাঠক হিসেবে তিনি প্রশংসিত। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বুদ্ধিবাদ, অভিজ্ঞতাবাদ ও সুফিবাদের সমন্বয়ে স্বতন্ত্র জীবনদর্শনে বিশ্বাসী। তা মূলত 'স্বতঃসিদ্ধ সত্য', 'পূর্বতঃসিদ্ধ ধারণা', 'ধর্মদর্শন', 'অধিবিদ্যা' ও 'জগৎ-জীবনের সৌন্দর্যবোধ' ইত্যাদিকে বিচারের জন্যই। তাছাড়া মহাদার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের দর্শনের প্রতি তাঁর প্রবল অনুরাগ রয়েছে। মানবিক চেতনার স্বরূপ উদঘাটনের প্রয়োজনে নিজস্ব জীবনদর্শনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ অন্যান্য মতবাদকেও গুরুত্ব দিতে চান তিনি। কারণ তিনি মনে করেন, জগতে মহান ব্যক্তি কর্তৃক উদ্ভাবিত কোনো মতবাদই অপাঙক্তেয় নয়। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, দর্শন, নন্দনতত্ত্ব, মুক্তিযুদ্ধ দর্শন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের প্রতি তিনি বিশেষভাবে অনুরক্ত। তবে লেখালেখির ক্ষেত্রে সাহিত্য ও দর্শনকে প্রাধান্য দেন লেখক। জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর মননশীল লেখা ছাপা হয়েছে। সম্পাদনা গ্রন্থ: প্রিন্সিপাল খালেদা হাবিব (মার্চ, ২০১৯), 'স্মৃতিতে শ্রুতিতে আমার বাবা প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ'। পেশা: আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন গবেষণা। সামাজিক দায়বদ্ধতা: নির্বাহী পরিচালক, ইমানুয়েল কান্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশন। অনারারি ট্রাস্টি সদস্য, প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ -প্রিন্সিপাল খালেদা হাবিব ট্রাস্ট ফান্ড (ঢা.বি)। যুগা-সম্পাদক, 'একাত্তরের কথা' (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণা পত্রিকা)।