কামাল হাসান চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ। একজন কর্মবীর। একজন বিপ্লবী। একজন সফল সংগঠক। একজন উন্নয়ন সমন্বয়ক। সময়ের প্রয়োজনে নিজের ভূমিকাগুলো নিজেই নির্ধারণ করেছেন। স্কুল ছাত্রাবস্থায় ৫২'র রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে মিটিং মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫৪'র সাধারণ নির্বাচন, ৬২'র গণঅভ্যুত্থান, ৭০'র নির্বাচন ও ৭১'র অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন দৃঢ়চিত্তে। শিক্ষক সমিতির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হিসাবে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে দূর্বার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন থেকে ড. সামসুল হক শিক্ষা কমিশন পর্যন্ত সকল শিক্ষা কমিশনে তাঁর গঠনমূলক প্রস্তাবনা কমিশন বিবেচনায় নিয়েছেন। এ সংগ্রামী শিক্ষক নেতা বৈষম্যহীন শিক্ষা-ব্যবস্থাসহ শিক্ষা-জাতীয়করণের দাবিতে প্রথমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পরবর্তী পর্যায়ে সকল সরকার প্রধানের নিকট শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি হিসাবে স্মারকলিপি পেশ করেন।
১৯৭০ সন থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক, জেলা সভাপতি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উপদেষ্টা ছিলেন। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি ও অটিস্টিক স্কুল প্রতিষ্ঠা তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠকর্ম বলে তিনি মনে করতেন। ফেনী ডায়বেটিস হাসপাতালসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান সর্বজনবিদীত ও স্বীকৃত। শিক্ষাবিদ মরহুম কামাল হাসান চৌধুরী আত্মজীবনীতে যাপিতজীবনের কর্মযজ্ঞের সংক্ষিপ্তরূপকে তুলে ধরেছেন উত্তরপ্রজন্মের জন্য। ফেনীর উন্নয়ন সমন্বয়, প্রগতি এমন নানাবিধ বিষয় এ গ্রন্থের মাধ্যমে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জীবনাচারে কর্তব্যজ্ঞান সর্ম্পকে গ্রন্থটি নির্দেশিকাও বটে।