তখন ২০১৮ সাল। আমার লেখালেখির দশ বছর। সে-সময় কবিতা বেশি লেখা হতো। নতুন ল্যাপটপ কেনার পর সেখানে কবিতা লিখতাম। ডায়েরিতে লেখা বন্ধ হয়ে গেল মোটামুটি। পত্রপত্রিকায় বেশ কিছু কবিতা ছাপা হলো। যা ছাপা হলো কিংবা ফেসবুকে যা পোস্ট দিতাম, তা তো পাঠক পড়তই। আর বাকিসব রয়ে গেল ফোল্ডারে। বছর শেষে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করলাম। নাম দিলাম ‘জুতার তলা খোয়ানো মানুষ’। বিভিন্ন প্রকাশনীতে পাঠানোও হলো। ভেবেছিলাম, এটিই হয়তো আমার প্রথম বই হবে। কিন্তু শুরুটা তখন এটি দিয়ে হয়নি।
অনেকটা সময় কেটে গেছে। অনেক বই প্রকাশ হয়েছে আমার। কিন্তু এই কবিতার পাণ্ডুলিপি যেন প্রকাশ করা হয়ে ওঠেনি এতদিনে। অবহেলায় নিদারুণ পড়েছিল ফোল্ডারে। যেহেতু কবিতাগুলো বেকার হয়ে পড়ে আছে, তাই ভাবনায় আসলো কিছু একটা করা দরকার। এই মৌসুমে তো বই প্রকাশ করাও সম্ভব না। তাই ই-বুক প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলাম। যেহেতু ই-বুক প্লাটফর্ম হিসেবে রকমারি ডট কম ও বইটই হাতের নাগালে আছে, তাই এই সুযোগটা হাতছাড়া করা মোটেও ঠিক হবে না।
বেশ কদিন লাগিয়ে পাণ্ডুলিপি পড়লাম। দেখলাম, কতই না প্রাসঙ্গিক কবিতাগুলো। এখনও যেন সেই চিন্তাধারা, সেই ভাবনা। এখনও আমার কবিতাগুলো প্রাণবন্ত। নিজের লেখা কবিতাগুলো পড়তে গিয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে যাচ্ছিলাম। কবিতা প্রুফরিড করতে করতে প্রচ্ছদশিল্পী আল নোমান ভাইয়ের কাছে প্রচ্ছদের আবদার করে বসি। তিনি দ্রুত সময়ে প্রচ্ছদ করে দেন। তার প্রতি সত্যি কৃতজ্ঞ আমি। আমি আরও কৃতজ্ঞ থাকব, যদি আমার পাঠক ডিজিটাল মাধ্যমে আমার কবিতা পড়ে আমাকে একটুখানি উৎসাহ দেয়। সবার উৎসাহ ও ভালোবাসায় জাগ্রত হোক ‘জুতার তলা খোয়ানো মানুষ’।
বর্তমান লেখকদের মধ্যে পরিচিত মুখ। শৈশব-কৈশোরে লেখালেখির হাতেখড়ি। নিয়মিত লিখছেন দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকা, ম্যাগাজিন ও সাময়িকীতে। সাহিত্যের সব শাখাতেই আছে সমান দক্ষতা। দক্ষতা, আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব ও প্রতিশ্রুতিশীলতা ক্রমশ এই লেখককে আগামীর পথ দেখাচ্ছে। বছরব্যাপী নতুন বই প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকমহলে চমক সৃষ্টি করে চলেছেন। বাংলা সাহিত্যে এই প্রতিভাবান লেখকের অবাধ বিচরণে মুগ্ধ সবাই।
তিনি ১৯৯৭ সালের ৭ নভেম্বর নাটোরের চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করছেন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র হওয়ার পরও লেখালেখির সূত্রে ঝুঁকে পড়েন সাংবাদিকতায়। দৈনিক মানবকণ্ঠে সাব-এডিটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও সরকারি চাকরি পাওয়ায় তা আর করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের সর্ববৃহৎ ইউনিট ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র কম্পিউটার বিভাগে কর্মরত আছেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা: ‘পাপড়ি-করামত আলী পাণ্ডুলিপি পুরস্কার-২০১৯’, ‘রূপচাঁদা: অদেখা বাংলাদেশ সেরা গল্পকার-২০১৯’, ‘চয়েন বার্তা সম্মাননা-২০২০’, ‘লিখিয়ে পাণ্ডুলিপি পুরস্কার-২০২০’, ‘প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার-২০২২’।