সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পৃথিবীতে যত নগর বা শহরের সৃষ্টি হয়েছে তার পেছনে মুখ্য ভূমিকা নদীর। কিছু ব্যতিক্রম মরুঅঞ্চলের শহর যেখানে নদী অনুপস্থিত। নদী হল মায়ের মতো। মা যেমন সন্তান জন্ম দেন এবং তিলে তিলে বড়ো করে তোলেন, তেমনি নদীও শহরের জন্ম দিয়ে তিলে তিলে বড়ো করে তোলে। শহরের অধিবাসীরা তাদের জীবন ও জীবিকার উপকরণ নদী থেকে আহরণ করে। জীবন সাজায় এবং জীবন বাঁচায়। সমাজব্যবস্থার দৃষ্টি দিয়ে আমরা দেখতে পাই, কখনও কখনও মা ও সন্তানের সম্পর্ক অমিয়ের পরিবর্তে গরলের মতো হয়। তেমনি নাগরিকের জীবন বাঁচানো এবং সাজানোর আধার নদীর অবদানকে নাগরিকরা ভুলে যায়। নিজের তৈরিকৃত এবং নির্গত বর্জ্য নদীতে ফেলে সার্বিক পরিবেশ দূষিত করে। নদীকে তিলে তিলে মেরে ফেলে। বুদ্ধি আর প্রতিভায় বলীয়ান মানুষকে স্রষ্টা দিয়েছেন শ্রেষ্ঠত্ব। কখনও কখনও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করে মানুষ প্রকাশ করে অহংকার। চিরন্তন সংযমী প্রকৃতির ওপর ধ্বংসাত্মক ক্রিয়াকলাপ সম্পাদন করে। নিজেদের ক্ষতির ফাঁদ নিজেরাই পেতে প্রকাশ করে প্রতিভার অসারতা। মনে পড়ে কবির কথা―
‘শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির
লিখে রেখ এক ফোঁটা দিলেম শিশির।’
হয়তো মানুষ মনে করে তাদের সৃজিত বাগিচা প্রকৃতিকে অপরূপতা দান করেছে। মানুষের এমন ধারণা ভুল বরং প্রকৃতি মানুষকে মাতৃমমতায় আগলে রেখেছে। আমাদের সৃজিত ঢাকা নগরী বুড়িগঙ্গার অবদানে তৈরি। আমরা তার অবদানগুলো ভুলে গিয়েছি। তাই তো ঢাকা নগরীর প্রসূতিকে প্রতিনিয়ত আমরা মেরে ফেলছি। হে প্রভু, আমাদের জ্ঞানের অসারতাকে দূর কর, ঢাকা নগরের প্রসূতিকে বাঁচানোর সুবোঁধ জাগ্রত কর।
এম রাকিব ১৯৮৩ ইং সনে চাঁদপুর জেলার অন্তর্গত মতলব উত্তর উপজেলার বড়হলদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুর রাজ্জাক শিকদার ও মাতা রুপিয়া খাতুন। এম রাকিবের পাঁচ ভাই ও এক বোন। ২০০৬ ইং সনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০০৭ ইং সনে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি মনে করেন ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে’ এবং ‘অধ্যবসায়ই হলো বিকাশের চাবি-কাঠি’। কৃতিত্বপূর্ণ ছাত্র না হওয়া সত্ত্বেও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সাহিত্য রচনা করতে পেরেছেন।
“উপলব্ধি” তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং “বুড়িগঙ্গা এ নগরের প্রসূতি” তার প্রথম ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস। এম রাকিব কর্মজীবন শুরু করেন বেসরকারি কোম্পানিতে। বর্তমানে তিনি অর্থ-মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন ‘বাংলাদেশ ইনফ্রাস্টাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড’ এ সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। চাকরির পাশাপাশি তিনি নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করছেন।