প্রতিভূ প্রকাশ থেকে সদ্য ছাপা, লেখিকা জাকিয়া সুলতানা আপুর কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ "ওরা চারজন"-এর তৃতীয় পর্ব "মুখোশ" বইটা পড়লাম। বইটার ছোটখাটো একটা রিভিউ দেই। আশা করি পাঠকদের কাজে আসবে।
ফাহিম, ওলী, রনি আর সুমন। ওরা চারজন সিরিজের চার কিশোর। গল্পের শুরুতেই দেখা যায়, রনিকে কে যেন আহত করে নদীর তীরে শ্মশানে ফেলে রেখেছে। সেখান থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরে রনি। কিন্তু আঘাতের ফলে স্মৃতি হারিয়ে ফেলার রোগে আক্রান্ত হয় সে।
শ্মশান থেকে বেঁচে ফেরার পরও বিপদ মুক্ত হয় না সে। একের পর এক হামলা শুরু হয় তার উপর।
রনির বাকি তিন গোয়েন্দা বন্ধু ব্যাপারটা লক্ষ্য করে। তারা বিপদে পড়া বন্ধুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। আগের পর্বগুলোর মতো এবারও রহস্যের গন্ধ শুকে খুঁজে বের করতে চায় অপরাধীকে।
অবশ্য অপরাধী এত সহজে ধরা দেবে কেন? শুরু হয় দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
ওদিকে কিশোর গোয়েন্দাদের গ্রামে আস্তানা গেড়েছে এক নামকরা বিজ্ঞানী। ফাহিম, ওলি, সুমনদের খোঁজ করতে শুরু করেছে থানার পুলিশ অফিসার।
তারপর কি হয়? তা জানতে হলে বইটা পড়তে হবে।
____
এবারে বইটিতে আমার ভালো লাগার কিছু দিক বলি।
প্রথম কথা হল, কিশোরদের জন্য ইসলামি ঘরানার মানসম্মত কাজ প্রায় শূন্যের কোটায়। এ ধরণের বইগুলো সে শূন্যতার বিশাল গোলা ভরার কাজটা অল্প অল্প করে করছে। তাই মুখোশের মতো বইগুলো আমাদের সাদর অভ্যর্থনা প্রাপ্য।
বইটিতে তথ্যের বেশ বৈচিত্র্য পেয়েছি। বিজ্ঞানের এসব হালনাগাদ তথ্য কিশোররা না বুঝলেও নতুন কিছুর প্রতি তাদের অবচেতন মনে আগ্রহ জাগাতে এগুলোর ব্যবহার আমি এপ্রেসিয়েট করি।
এছাড়া মুখোশে বিনোদনের নামে নষ্টামি বা অসুস্থ কোন উপাদান ঠাই পায়নি। এ জন্যও লেখিকা প্রশংসা প্রাপ্য।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পরিবারের ছোটদের জন্য নিরাপদ, সুস্থ ধারার বই হিসেবে ওরা চারজন সিরিজ হতে পারে আপনার অন্যতম চয়েজ।
_____
এবার অল্প কিছু নেতিবাচক সমালোচনা করি।
শুরুতেই বলে নিই। কিশোর উপন্যাস মানে কিশোর উপন্যাস। ১০-১৬ বছর বয়সীদের জন্য লেখা। ভার্সিটির 3rd ইয়ার, 4th ইয়ারের স্টুডেন্ট বা কর্মজীবীরা কিশোর উপন্যাসে নিজেদের লেভেলের তৃপ্তি আশা করা বোকামি। প্রাপ্তবয়স্কদের ভালো না লাগলেও দেখা যাবে কিশোরদের কাছে এটা খুব মজাদার লেগেছে।
এটা মাথায় রেখেও বলছি, আমার মনে হয়েছে ‘মুখোশ’ বইটির দুয়েকটা জায়গায় উন্নতি করা যেতো।
যেমনঃ অপরাধী কে বা কারা তা খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে। রহস্য-গ্রন্থে অপরাধী চিহ্নিত হওয়ার আগেই বুঝে ফেললে ব্যাপারটা বই পড়ার মজা নষ্ট করে দেয়। কিশোরদের কাছে বইয়ের এই দিকটা কেমন লাগবে জানি না। তবে পার্সোনাল অপিনিয়ন দেয়া যেতেই পারে।
এছাড়াও চার কিশোরের অনেক কথাই ঠিক ‘কথোপকথন’ মনে হয়নি। বইয়ের ভাষার মতো লেগেছে। ইমোশন ঠিকমতো ফুটে উঠেনি মনে হয়েছে। অবশ্য বাচ্চাদের চোখে এত কিছু পড়বে বলে মনেও হয় না।
যাইহোক।
মুখোশ ও ওরা চারজন সিরিজের বহুল সাফল্য ও প্রচার কামনা করছি। এই ধরণের বই আরও বেশি বেশি আসুক।