খুবই সামান্য। শিকারি সবসময় আপনার হাতের নাগালে থাকে, অথচ আপনি তাকে দেখেন না। সে আপনার পরিচিত গন্ধে মিশে থাকে, আপনার বিশ্বাসের আড়ালে ছদ্মবেশ ধরে বসে থাকে। মানুষের মন এক অদ্ভুত গোলকধাঁধা। যেখানে আলো আর অন্ধকারের লড়াই চলে নিরন্তর। আমরা যাদের খুব কাছ থেকে চিনি বলে দাবি করি, আসলে কি তাদের চেনা সম্ভব? নাকি প্রতিটি হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক ভিন্ন মানুষ, প্রতিটি নীরবতার পেছনে জমা থাকে এক পৈশাচিক চিৎকার?
‘দি ৭ রিং’ স্রেফ একটি অপরাধের আখ্যান নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের এক মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত। একটি নির্জন অরণ্য, বৃষ্টির অঝোর ধারা আর একটি অভিশপ্ত অট্টালিকাÑ এই তিনটি উপাদানের মিশেলে গড়ে উঠেছে এমন এক মরণখেলা, যেখানে শিকার আর শিকারির পরিচয় ক্ষণে ক্ষণে বদলে যায়।
গল্পটি যখন লিখতে শুরু করি, তখন মাথায় ছিল কেবল একটি প্রশ্নÑ একটি ভুল সিদ্ধান্ত মানুষের জীবনকে কতটা বদলে দিতে পারে? যখন সত্য এবং মিথ্যের সীমারেখা ঝাপসা হয়ে আসে, তখন মানুষ কি তার সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে বিপদেকে চিনতে পারে, নাকি নিজেই তার পরবর্তী শিকারে পরিণত হয়?
এই উপন্যাসের প্রতিটি পাতায় আপনি পাবেন এক শ্বাসরুদ্ধকর রোমাঞ্চ। যেখানে ভালোবাসা আর সন্দেহ একই বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে। আইনের চোখে যা ‘অমীমাংসিত রহস্য’, সেই অন্ধকারের সত্যটুকুই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এই লেখনীর মাধ্যমে।
পাঠক যদি বইটির শেষ পাতায় পৌঁছে এক মুহূর্তের জন্য শিউরে ওঠেন, তবেই লেখিকা হিসেবে আমার সার্থকতা। চলুন, হারানো যাক সেই অভিশপ্ত রাতের রহস্যঘেরা এক মরণফাঁদে।